টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দুনিয়ায় শুধু চার-ছক্কা নয়, টাকার ঝনঝনানিও একটা বিশাল ফ্যাক্টর, আর বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) আর্থিক ইতিহাসটা বেশ চমকপ্রদ। ক্রিস লিনের মতো লোকাল হিরোদের রেকর্ড-ব্রেকিং মাল্টি-ইয়ার চুক্তি থেকে শুরু করে বাবর আজমদের মতো গ্লোবাল সুপারস্টারদের আধুনিক ড্রাফট সাইনিং—লিগটির আর্থিক কাঠামোতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আপনারা যারা Sportslivehub এ লাইভ স্ট্রিমিং-এর পর্দায় খেলার উত্তাপ উপভোগ করছেন, তাদের কৌতূহল মেটাতে আজ আমরা তুলে ধরছি বিগ ব্যাশ ইতিহাসের সবচেয়ে দামী কয়েকজন তারকার তালিকা।
ক্রিস লিন ($১.৮৭ মিলিয়ন): ব্যাশ ব্রাদার্স-এর গোল্ডেন বয় ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির রেকর্ড

ক্রিস লিন ছিলেন বিবিএল-এর সেই সময়ের প্রতীক, যখন লিগটি আর্থিকভাবে তার সাফল্যের শিখরে ছিল। $১.৮৭ মিলিয়ন ডলারের সেই চুক্তিটি ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য। তবে লিনের এই ভ্যালুয়েশন শুধু তার রানের জন্য ছিল না, এটা ছিল তার তৈরি করা “Lynnsanity” ব্র্যান্ডের দাম। একজন এনালিস্ট হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, লিন এই বিশাল টাকাটা এক সিজনে পাননি। ব্রিসবেন হিটের সাথে তিনি ৫ বছরের জন্য একটি মেগা ডিল সাইন করেছিলেন, যার মোট মূল্য বা ‘কিউমুলেটিভ ভ্যালু’ তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। নিজের সেরা সময়ে লিন ছিলেন সিক্স-হিটিং মেশিন, যার জন্য এই ৭-ফিগার ইনভেস্টমেন্ট তখন যৌক্তিক ছিল। বর্তমান ড্রাফট সিস্টেমে এক সিজনে এত টাকা পাওয়া অসম্ভব, তাই লিনের এই রেকর্ডটি পুরনো যুগের ‘ডিরেক্ট নেগোসিয়েশন’-এর এক স্মৃতিস্তম্ভ হয়েই থাকবে।
মিচেল স্টার্ক ($১.৮ মিলিয়ন): পেস অ্যাটাকের ‘যদি-কিন্তু’ এবং অ্যাভেইলেবিলিটি ট্যাক্স

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিচেল স্টার্কের $১.৮ মিলিয়ন ভ্যালুয়েশন হলো বিগ ব্যাশের সবচেয়ে বড় “What if” সিনারিও। লিনের মতোই, এই অংকটা ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী রিটেনশন ভ্যালু, যেখানে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও বড় অংকের টপ-আপ পেমেন্ট দিত যাতে তাদের সেরা পেসারকে দেশের লিগে ধরে রাখা যায়। কিন্তু এর পেছনের পরিহাসটা দেখুন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপে স্টার্ক গত কয়েক বছরে অনেক গ্রেড ক্রিকেটারের চেয়েও কম বিবিএল ম্যাচ খেলেছেন! এই প্রাইস ট্যাগটি মূলত ছিল “অ্যাভেইলেবিলিটি ট্যাক্স”। ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বোর্ড বিশাল ক্যাপ স্পেস খরচ করতে রাজি ছিল, শুধুমাত্র এই আশায় যে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ইয়র্কার স্পেশালিস্ট হয়তো কয়েকটি ম্যাচের জন্য হলেও মাঠে নামবেন। আধুনিক স্যালারি ক্যাপের যুগে এমন লিগ্যাসি ভ্যালুয়েশন আর দেখা সম্ভব নয়।
বাবর আজম (AUD ৪,২০,০০০): ড্রাফট যুগের প্লাটিনাম ক্লাস ও নান্দনিকতার মূল্য

ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে বিগ ব্যাশ লিগ ১৫ (2025/26) সিজনে আসা যাক, যেখানে আমরা ড্রাফট যুগের বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি। বাবর আজম বর্তমান নিয়মে সর্বোচ্চ ‘প্লাটিনাম টিয়ার’ স্যালারি অর্থাৎ AUD ৪,২০,০০০-এ দল পেয়েছেন। লিনের মিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটা কম মনে হতে পারে, কিন্তু ‘পার সিজন’ বা প্রতি মৌসুমের হিসেবে এটাই এখন বিবিএল-এর সর্বোচ্চ সীমা। বাবর লিনের মতো পাওয়ার-হিটার নন, তিনি হলেন একজন ‘নান্দনিক অ্যাঙ্কর’। ব্রিসবেন হিট এখানে স্লগিংয়ের জন্য টাকা ঢালেনি; তারা ইনভেস্ট করেছে বিশাল সাউথ এশিয়ান ফ্যানবেস এনগেজমেন্ট এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা কাভার ড্রাইভের আভিজাত্যের ওপর। এটা পুরোপুরি একটি মার্কেটিং-হেভি এবং হিসেবি ইনভেস্টমেন্ট।
শাহীন শাহ আফ্রিদি (AUD ২,৭০,০০০): বাজেটের মধ্যে বাঁহাতি বজ্রপাত ও পাওয়ার-প্লে ইমপ্যাক্ট

২০২৫/২৬ সিজনের জন্য প্রায় AUD ২,৭০,০০০ মূল্যে আমরা পাচ্ছি শাহীন শাহ আফ্রিদিকে। গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগের বাজারে একজন ওয়ার্ল্ড-ক্লাস বাঁহাতি পেসারকে এই দামে পাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য রীতিমতো ‘হাইওয়ে রবারি’ (বা সস্তায় সেরা ডিল)! যদিও অস্ট্রেলিয়ান সামারে তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকবেন, তবু কয়েক সপ্তাহের সার্ভিসের জন্য এই পেমেন্ট বেশ ভালো। বিবিএল দল গুলো জানে, পাওয়ার প্লে-তে উইকেট তোলাই ম্যাচ জেতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। যদিও আর্থিক মূল্যে শাহীন বাবরের নিচে, কিন্তু ১৪৫ কিমি/ঘন্টা গতিতে নতুন বল সুইং করিয়ে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে যেই ROI দেবেন, তা হয়তো একজন টপ-অর্ডার অ্যাঙ্করের চেয়েও বেশি ইমপ্যাক্টফুল।
মোহাম্মদ রিজওয়ান (AUD ২,৭০,০০০): কিপার-ব্যাটার প্যাকেজে রানিং মেশিনের হাই-ভোল্টেজ পে-ডে

আমাদের টপ টিয়ার লিস্ট পূর্ণ করছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনিও AUD ২,৭০,০০০ বাগে পুরেছেন। রিজওয়ানকে দলে নেওয়া মানে রিক্রুটমেন্ট স্ট্র্যাটেজিতে একটি পরিবর্তন: এখন ‘হাই-এনার্জি’ এবং ‘মাল্টি-রোল’ প্লেয়ারদের কদর বেশি। তিনি উইকেটকিপিং করেন, ইনিংস অ্যাঙ্কর করেন, আবার উইকেটের মাঝে এমনভাবে দৌড়ান যেন চিতা বাঘ তাকে তাড়া করছে! বিবিএল-এ যেখানে ফিল্ডিংয়ের মান মাঝে মাঝে পড়ে যায়, সেখানে ৪০+ গড়ে ব্যাট করা একজন এলিট গ্লাভসম্যানকে দলে নেওয়া হলো ‘সেফটি প্লে’। এতে বোঝা যায়, ফ্র্যাঞ্চাইজিরা এখন আর “অবসরপ্রাপ্ত লিজেন্ডদের” পেছনে টাকা না ঢেলে বর্তমানের পারফর্মিং ‘ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিন’-দের ওপর ভরসা রাখছে।
ক্রিস লিনের সেই ঐতিহাসিক $১.৮৭ মিলিয়ন এবং বাবর আজমের বর্তমান $৪,২০,০০০ সিজনাল ফির মধ্যকার পার্থক্যটা বিবিএল-এর কাঠামোগত বিবর্তনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমরা প্রাইভেট কন্ট্রাক্টের সেই “ওয়াইল্ড ওয়েস্ট” যুগ থেকে এখন একটি সুশৃঙ্খল, ড্রাফট-ভিত্তিক অর্থনীতিতে এসেছি। হয়তো আধুনিক তারকাদের কাঁচা টাকার অংকটা দেখতে ছোট লাগছে, কিন্তু খরচের কার্যকারিতা বা এফিসিয়েন্সি এখন অনেক বেড়েছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. এক সিজনে টেকনিক্যালি বিবিএল-এর সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় কে?
বর্তমান ড্রাফট সিস্টেমে, প্লাটিনাম ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা (যেমন বাবর আজম) সর্বোচ্চ ক্যাপ হিসেবে প্রতি সিজনে প্রায় AUD ৪,২০,০০০ আয় করেন।
২. আইপিএল-এর তুলনায় বিবিএল-এর বেতন এত কম কেন?
আইপিএল-এর ব্রডকাস্টিং রেভিনিউ এবং আর্থিক ইকোসিস্টেম অনেক বিশাল, যা তাদের বিবিএল-এর চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি স্যালারি ক্যাপ রাখার সুযোগ করে দেয়।
৩. এই স্যালারি ফিগারগুলোর সাথে কি বিজ্ঞাপন বা এনডোর্সমেন্ট যুক্ত আছে?
সাধারণত না। এই অংকগুলো শুধুমাত্র লিগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে প্রাপ্ত বেস রিটেইনার বা ড্রাফট ফি; এর মধ্যে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপের টাকা অন্তর্ভুক্ত নয়।
ডিসক্লেইমার: এই আজকের ট্রেন্ডিং (ব্লগ) কেবল লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। আলোচিত বিষয়গুলো ভেবে দেখুন, বিশ্লেষণ করুন, আর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।
বিবিএল এর আজকের ম্যাচ: টিম নিউজ, লাইভ স্কোর ও লাইভ স্ট্রিমিং – দেখুন BJ Sports-এ
বিপিএল আজকের ম্যাচ: লাইভ স্কোর, বল-বাই-বল আপডেট ও লাইভ স্ট্রিম দেখুন BJ Sports-এ
পিএসএল ২০২৬ মাতাবেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান: বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন BJ Sports-এ
বিবিএল ২০২৬: রানের দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবার চেয়ে এগিয়ে কোন ব্যাটার

