বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) আর শুধু অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মের হালকা মেজাজের বিনোদন নেই, এটি এখন রীতিমতো ‘টাকার খেলা’। বৈশ্বিক লিগগুলোর সাথে পাল্লা দিতে ২০২৬ সালকে তারা বেছে নিয়েছে ‘হয় দাম দাও, নয়তো হারিয়ে যাও’ নীতির বছর হিসেবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এবার ৩ মিলিয়ন ডলারের বিশাল স্যালারি ক্যাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে, উদ্দেশ্য একটাই—বিশ্বসেরা তারকাদের দলে ভেড়ানো। যারা Sportslivehub এ লাইভ স্ট্রিমিং-এ চোখ রাখছেন, তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন এবারের টুর্নামেন্টের ইনটেনসিটি বা ঝাঁঝ কতটা বেড়েছে। সোজা কথায়, টাকা ঢাললে যে ক্রিকেটের মান বাড়ে, এবার বিগ ব্যাশ সেটাই প্রমাণ করছে।
গড়পড়তা খেলোয়াড়রা হয়তো ১,৬৭,০০০ ডলার পকেটে পুরছেন, কিন্তু আসল চমকটা রয়েছে তালিকার শীর্ষে থাকা ‘প্ল্যাটিনাম’ তারকাদের নিয়ে। চলুন দেখে নিই, এই সিজনে কারা বাজিমাৎ করলেন।
স্যালারি স্ট্রাকচার: মেধা ধরে রাখার লড়াই
এতদিন বিগ ব্যাশ চলতো অনেকটা আবেগের ওপর, কিন্তু পুরনো নিয়মে সেরা প্লেয়াররা বেশি টাকার লোভে অন্য লিগে চলে যাচ্ছিল। সেই স্রোত বন্ধ করতেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নতুন ড্রাফট মডেল সাজিয়েছে। এখানে ‘প্ল্যাটিনাম’ স্ট্যাটাস পাওয়া মানেই জ্যাকপট পুরো সিজন খেললে পকেটে ঢুকবে ৪,২০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD)। এর নিচে গোল্ড (৩ লাখ) আর সিলভার (২ লাখ) ক্যাটাগরি তো আছেই। মাল্টি-ইয়ার বা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কারণে দলগুলো এখন আরও গুছিয়ে দল সাজাতে পারছে।
চলুন দেখে নিই, এই সিজনের বিবিএল প্লেয়ার স্যালারি, কারা বাজিমাৎ করলেন এবং কার পকেটে কত ঢুকছে।
বাবর আজম: সিডনি সিক্সার্সের তুরুপের তাস

এই মুহূর্তে স্যালারি তালিকার একেবারে চূড়ায় বসে আছেন পাকিস্তানের রান মেশিন বাবর আজম। সিডনি সিক্সার্স তাকে দলে ভিড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৪,২০,০০০ ডলারে। সিক্সার্স শুধু বাবরের দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভের জন্য এই টাকা দিচ্ছে না, তারা টাকা দিচ্ছে তার বিশাল ফ্যান বেস এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার সার্ভিস পাওয়ার জন্য। বিগ ব্যাশে যেখানে মাঝপথে বিদেশি প্লেয়ার চলে যাওয়াটা একটা রোগ, সেখানে বাবরের মতো অ্যাঙ্করকে পুরো সময় পাওয়া সিক্সার্সের জন্য বিশাল স্বস্তির।
শাহিন আফ্রিদি: ব্রিসবেন হিটের ‘লেফট-আর্ম লাইটনিং’

টাকার অঙ্কে বাবরের চেয়ে কম হলেও (২,৭০,০০০ ডলার), ইমপ্যাক্টের বিচারে শাহিন আফ্রিদি সম্ভবত বিগ ব্যাশ ইতিহাসের সেরা ‘ভ্যালু ফর মানি’ সাইনিং। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়াটা যার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, সেই শাহিনকে পাওয়া ব্রিসবেন হিটের জন্য লটারির মতো। নকআউট ম্যাচগুলোতে এই ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারই হয়তো গড়ে দেবে ব্যবধান।
মোহাম্মদ রিজওয়ান: রেনেগেডসের নতুন ইঞ্জিন

মেলবোর্ন রেনেগেডস তাদের দলের খোলস পাল্টাতে ২,৭০,০০০ ডলারে নিয়ে এসেছে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। রিজওয়ান মানেই অফুরন্ত এনার্জি। উইকেটের পেছনে বা সামনে—তিনি সারাক্ষণ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। রেনেগেডসের নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপে রিজওয়ান হতে পারেন সেই খুঁটি, যার ওপর ভর করে দল বড় স্বপ্ন দেখবে।
স্যাম কারান: অলরাউন্ড প্যাকেজ

বাবরের সতীর্থ হিসেবে সিক্সার্সে যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্যাম কারান (২,৭০,০০০ ডলার)। সিক্সার্স সবসময়ই ডাটা বা পরিসংখ্যান মেনে দল সাজায়, আর সেখানে কারান একদম পারফেক্ট ফিট। নতুন বলে সুইং কিংবা ডেথ ওভারে ইয়র্কার—কারান সব্যসাচী। টপ অর্ডার ফেল করলে লোয়ার অর্ডারে তার হিটিং এবিলিটি সিক্সার্সের জন্য বাড়তি ইনস্যুরেন্স।
ক্রিস জর্ডান: অভিজ্ঞতার দাম

হোবার্ট হারিকেন্স বরাবরই পাওয়ার হিটারদের ওপর জোর দিলেও এবার তারা ২,৭০,০০০ ডলারে অভিজ্ঞ ক্রিস জর্ডানকে দলে নিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই ফেরিওয়ালা ডেথ ওভারে বল হাতে যেমন কার্যকর, তেমনি তার অবিশ্বাস্য ফিল্ডিং একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
হারিস রউফ: ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা

হারিস রউফ আর মেলবোর্ন স্টার্সের সম্পর্কটা আবেগের। ক্লাব ক্রিকেট থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্বমঞ্চ কাঁপাচ্ছেন, আর সেই যাত্রাটা শুরু হয়েছিল এই স্টার্সদের হাত ধরেই। ২,৭০,০০০ ডলারে তিনি আবারও ফিরেছেন তার পুরনো ডেরায়। এমসিজি (MCG)-র বিশাল মাঠ আর পিচ তার নখদর্পণে, তাই স্টার্সের ফ্যানদের জন্য এটা শুধুই সাইনিং নয়, এটা রিইউনিয়ন।
লকি ফার্গুসন: থান্ডারের গতির ঝড়

সিডনি থান্ডার গতির ঝড় তুলতে ২,৭০,০০০ ডলারে নিয়েছে কিউই পেসার লকি ফার্গুসনকে। সিডনির পিচ মাঝে মাঝে স্লো হয়ে যায়, সেখানে ফার্গুসনের গতি ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মাঝের ওভারগুলোতে জুটি ভাঙতে তার জুড়ি নেই।
ফিন অ্যালেন: পার্থের নতুন বারুদ

পার্থ স্কর্চার্স সবসময় বুঝেশুনে প্লেয়ার কেনে। এবার তারা ২,৭০,০০০ ডলার খরচ করেছে ফিন অ্যালেনের জন্য। পার্থের বাউন্সি উইকেটে পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে অ্যালেনের মতো মারকুটে ব্যাটারই দরকার। তার কাজ একটাই—শুরু থেকেই আক্রমণ করা।
কলিন মানরো: ব্রিসবেনের অভিজ্ঞ সেনানী

শাহিনের সাথে ব্রিসবেন হিটে যোগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ কলিন মানরো (২,৭০,০০০ ডলার)। দীর্ঘদিন ধরে লিগ ক্রিকেট খেলা মানরো অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন খুব ভালো বোঝেন। দলের ব্যাটিং লাইনআপ যাতে ধসে না পড়ে, সেই দায়িত্বটা থাকবে তার কাঁধেই।
জেমি ওভারটন: স্ট্রাইকার্সের বাজি

অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ২,৭০,০০০ ডলারে বাজি ধরেছে জেমি ওভারটনের ওপর। রিজওয়ান বা কারানের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতি না থাকলেও, তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতা স্ট্রাইকার্সের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।
২০২৬ সালের বিগ ব্যাশ প্রমাণ করছে, দিন বদলেছে। বাবর আজমের ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের চেক হয়তো শিরোনামে থাকছে, কিন্তু দিনশেষে শাহিন, কারান বা রউফদের মতো ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারের তারকারাই হয়তো ঠিক করে দেবেন ট্রফি কার ঘরে যাবে। অর্থনীতির এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় ক্রিকেট বোর্ড জিতবে কি না সময় বলবে, তবে দর্শকরা যে এবার দারুণ কিছু ম্যাচ উপহার পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. ২০২৬ বিগ ব্যাশে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ কত বেতন পেতে পারেন?
একজন প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরির খেলোয়াড় যদি পুরো সিজন খেলেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৪,২০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) পর্যন্ত পেতে পারেন।
২. বিগ ব্যাশ কেন স্যালারি ক্যাপ বা দলের বাজেট বাড়াল?
আইএলটি-২০ (ILT20) এবং এসএ-২০ (SA20)-এর মতো ধনী লিগগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে সেরা আন্তর্জাতিক তারকাদের ধরে রাখতেই স্যালারি ক্যাপ বাড়িয়ে ৩ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।
৩. বিগ ব্যাশে বিদেশি খেলোয়াড়দের কীভাবে নেওয়া হয়?
বিদেশি খেলোয়াড়দের মূলত একটি ‘ড্রাফট’ সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের দক্ষতা ও ডিমান্ড অনুযায়ী প্ল্যাটিনাম, গোল্ড, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ—এই চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা থাকে।
ডিসক্লেইমার: এই আজকের ট্রেন্ডিং (ব্লগ) কেবল লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। আলোচিত বিষয়গুলো ভেবে দেখুন, বিশ্লেষণ করুন, আর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।
বিবিএল এর আজকের ম্যাচ: টিম নিউজ, লাইভ স্কোর ও লাইভ স্ট্রিমিং – দেখুন BJ Sports-এ
বিপিএল আজকের ম্যাচ: লাইভ স্কোর, বল-বাই-বল আপডেট ও লাইভ স্ট্রিম দেখুন BJ Sports-এ
পিএসএল ২০২৬ মাতাবেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান: বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন BJ Sports-এ
বিবিএল ২০২৬: রানের দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবার চেয়ে এগিয়ে কোন ব্যাটার

