
নিলামের টেবিলে যখন হাতুড়িটা সজোরে আছড়ে পড়ল এবং দামটা গিয়ে ঠুকল ৯.২০ কোটিতে, তখন নিলাম কক্ষের অনেকেরই চোখ কপালে! কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) যারা বরাবরই ‘রহস্য স্পিনার’দের প্রেমে মগ্ন থাকে, তারা কিনা নিজেদের পার্সের এত বড় একটা অংশ ঢেলে দিল মুস্তাফিজুর রহমানের পেছনে? ওপর ওপর দেখলে মনে হতে পারে, ৫টি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘুরে আসা একজন পেসারের জন্য ১০ কোটির কাছাকাছি খরচ করাটা বুঝি জুয়া খেলা হলো। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, এটা আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং পাকা মাথার চাল।
মুস্তাফিজ এখন আর ২০১৬ সালের সেই আনকোরা তরুণ তুর্কি নন, তিনি এখন টি-টোয়েন্টি সার্কিটের পোড় খাওয়া সেনাপতি। কেকেআর আসলে কোনো ‘সম্ভাবনা’ কেনেনি, তারা তাদের দীর্ঘদিনের বোলিং সমস্যার ‘সমাধান’ কিনেছে। ফিজের গল্পটা এখন আর গতির ঝড় তোলা নিয়ে নয়; বরং তাঁর গল্পটা হলো ব্যাটসম্যানকে ধোঁকা দেওয়া, অ্যাঙ্গেল তৈরি করা এবং ডেথ ওভারে বাতি জ্বলার মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে বোতলবন্দী করে ফেলার শিল্প।
ইডেন গার্ডেন্সে স্লো পিচের ধাঁধাঁ ও ফিজের কাটারে কিস্তিমাত
আইপিএল ২০২৬ কেকেআর-এর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর আসল রহস্য লুকিয়ে আছে ইডেন গার্ডেন্সের পিচে। গত কয়েক বছরে ইডেনের পিচ চরিত্র বদলেছে, এখানে বল পিচে পড়ার পর গ্রিপ করে এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লো হতে থাকে। ঠিক এই জায়গাতেই মুস্তাফিজ একজন সাধারণ পেসার থেকে জাদুকরে পরিণত হন। তাঁর প্রধান অস্ত্র, সেই বিখ্যাত অফ-কাটার, যা ব্যাটসম্যানের কাছে পৌঁছানোর আগেই বাতাসে থমকে যায় এবং নিচু হয়ে পিচ করে, ইডেনের কন্ডিশনের জন্য একেবারে আদর্শ।
ছোট বাউন্ডারির মাঠে অতিরিক্ত গতি অনেক সময় বোলারদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু কলকাতায় বলের গতি কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা অমূল্য। মুস্তাফিজের কব্জির মোচড় এতটাই দুর্বোধ্য যে ব্যাটসম্যানরা আগেভাগেই শট খেলে ফেলেন এবং ফাঁদে পা দেন। ঘরের মাঠে স্পিনারদের পাশাপাশি পেস অ্যাটাক দিয়েও প্রতিপক্ষকে মাঝের ওভারে চেপে ধরার জন্য কেকেআরের ঠিক এমন একজন ‘লোকাল ওয়েপন’ দরকার ছিল।
ডেথ ওভারের স্নায়ুচাপ: কেকেআরের ভরসার নতুন নাম
সত্যি বলতে, কেকেআরের ডেথ বোলিং প্রায়ই ভক্তদের হার্টবিট বাড়িয়ে দেয়। শেষ ৫ ওভারে রান আটকানো যেন রোলার কোস্টারে চড়ার মতো ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়ে ম্যানেজমেন্ট আসলে একজন প্রমাণিত ‘ম্যাচ ফিনিশার’-এর ওপর বাজি ধরেছে। মনে আছে ২০১৬ সালের কথা? এসআরএইচ-এর হয়ে শিরোপা জয়ে তিনি ছিলেন তুরুপের তাস। একমাত্র বিদেশি হিসেবে ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ হয়েছিলেন শুধুমাত্র ডেথ ওভারে তাঁর অবিশ্বাস্য দক্ষতার কারণে।
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে মাত্র ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তাঁর ধার কমেনি। মাঠের জ্যামিতি বোঝা এবং ফিল্ডিং অনুযায়ী বল করার ক্ষেত্রে তিনি এখনও অদ্বিতীয়। ১৬ থেকে ২০ ওভারের সেই লঙ্কাকাণ্ডের সময় আপনার এমন বোলার দরকার নেই যিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, দরকার এমন কাউকে যিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞ কাঁধ কেকেআরের নড়বড়ে ডেথ বোলিংকে স্থিতিশীলতা এনে দেবে।
বাঁ-হাতি ভ্যারিয়েশন ও নিলামের চড়া দামের সমীকরণ
৯.২০ কোটি টাকার এই প্রাইস ট্যাগ আসলে চাহিদা ও জোগানেরই প্রতিফলন। আইপিএল নিলামে ডেথ ওভারে বল করতে পারা ভালো মানের বাঁ-হাতি পেসার সোনার হরিণের মতো দুর্লভ। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে মুস্তাফিজ যে প্রাকৃতিক অ্যাঙ্গেল তৈরি করেন, তা ব্যাটসম্যানদের স্টান্স বদলাতে বাধ্য করে।
তাছাড়া, দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে আইএলটি২০-তে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম বুঝিয়ে দিয়েছে তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং রিদমে আছেন। ফিজের রিমডেল করা বোলিং অ্যাকশন এবং স্লোয়ারের ভ্যারিয়েশনগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য আসছে মৌসুমে Sportslivehub এ লাইভ স্ট্রিমিং -এ চোখ রাখাটা মাস্ট। কেকেআর শুধু একজন প্লেয়ারের জন্য নয়, বরং অধিনায়কের ট্যাকটিক্যাল সুবিধার জন্য এই প্রিমিয়াম মূল্য দিয়েছে, যাতে বিপক্ষ দলের ডেঞ্জারাস ডানহাতি পাওয়ার হিটারদের বিপক্ষে একজন বিশ্বমানের বাঁ-হাতি পেসারকে ব্যবহার করা যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. আইপিএল ২০২৬ নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানের দাম কত ছিল?
মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯.২০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে কিনে নিয়েছে।
২. কেন মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআরের জন্য সঠিক চয়েস মনে করা হচ্ছে?
তাঁর দুর্বোধ্য অফ-কাটার এবং ডেথ ওভারে রান আটকানোর দক্ষতা ইডেন গার্ডেন্সের মন্থর পিচের জন্য পুরোপুরি মানানসই।
৩. সাম্প্রতিক আইপিএল মৌসুমগুলোতে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
২০২৪ মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তিনি দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়েছিলেন এবং মাত্র ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি এখনও একজন জেনুইন উইকেট-টেকার।
ডিসক্লেইমার: এই আজকের ট্রেন্ডিং (ব্লগ) কেবল লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। আলোচিত বিষয়গুলো ভেবে দেখুন, বিশ্লেষণ করুন, আর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সুপার এইট পয়েন্ট টেবিল: BJ Sports-এ সেমিফাইনালের সমীকরণ বিশ্লেষণ
ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্ন কি শেষ? BJ Sports-এর হিসাব-নিকাশ ও ব্রেকডাউন
T20WC 2026 লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য বাংলাদেশি ভক্তরা কেন BJ Sports পছন্দ করছেন?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নজর কেড়েছে কোন দল? BJ Sports স্পেশাল

