
৮টি ম্যাচ। ৮টি ভিন্ন স্টেডিয়াম। একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই ৪টি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিকঅফ বা ম্যাচ শুরুর সময়। বেশিরভাগ ক্রিকেট ফ্যানই পুরো সিরিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট শুরুর সময়ের কথা ভেবে বসে থাকেন, আর ভুলটা করেন ঠিক দ্বিতীয় ম্যাচের সময়; যখন কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ম্যাচ তিন ঘণ্টা আগে শুরু হয়ে যায়। BJ Sports-এ আমরা এই ১৯ দিনের সফরের প্রতিটি কিকঅফ, সম্প্রচার মাধ্যম এবং ভেন্যু পরিবর্তনের বিস্তারিত সাজিয়েছি, যাতে ভুল সময়ে ভুল ফিড রিফ্রেশ করে আপনাকে কখনো হতাশ হতে না হয়।
টিপস ১: পুরো সফরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের ধারণা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন
একাধিক ফরম্যাট জুড়ে চলা দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ফ্যানরা সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করেন, তা হলো পুরো সিরিজের সময়সূচি একই থাকবে বলে ধরে নেওয়া। BJ Sports-এর ট্র্যাক করা শিডিউল ডেটা অনুযায়ী, এই ৮টি ম্যাচের জন্য ৪টি ভিন্ন কিকঅফ বা ম্যাচ শুরুর উইন্ডো রয়েছে। এই পরিবর্তনের দিকে নজর না রাখার মানে হলো টস কিংবা শুরুর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো পুরোপুরি মিস করা।
| ম্যাচ | তারিখ | স্থানীয় সময় (BST) | ভারতীয় সময় (IST) | ভেন্যু |
| ১ম টি-টোয়েন্টি | ১ জুলাই | ৫:৩০ পিএম | ১০:০০ পিএম | চেস্টার-লি-স্ট্রিট |
| ২য় টি-টোয়েন্টি | ৪ জুলাই | ২:৩০ পিএম | ৭:০০ পিএম | ম্যানচেস্টার |
| ৩য় টি-টোয়েন্টি | ৭ জুলাই | ৫:৩০ পিএম | ১০:০০ পিএম | নটিংহ্যাম |
| ৪র্থ টি-টোয়েন্টি | ৯ জুলাই | ৫:৩০ পিএম | ১০:০০ পিএম | ব্রিস্টল |
| ৫ম টি-টোয়েন্টি | ১১ জুলাই | ২:৩০ পিএম | ৭:০০ পিএম | সাউদাম্পটন |
| ১ম ওয়ানডে | ۱۴ জুলাই | ১১:০০ এএম | ৩:৩০ পিএম | বার্মিংহাম |
| ২য় ওয়ানডে | ১৬ জুলাই | ১:০০ পিএম | ৫:৩০ পিএম | কার্ডিফ |
| ৩য় ওয়ানডে | ১৯ জুলাই | ১১:০০ এএম | ৩:৩০ পিএম | লর্ডস, লন্ডন |
টিপস ২: দুটি টি-টোয়েন্টি শুরু হবে অন্যান্য ম্যাচের তিন ঘণ্টা আগে
পাঁচটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে তিনটি (১ম, ৩য় ও ৪র্থ) শুরু হবে বিকেল ৫:৩০ মিনিটে (BST)। কিন্তু ২য় এবং ৫ম টি-টোয়েন্টি এই নিয়ম ভেঙে শুরু হবে দুপুর ২:৩০ মিনিটে (BST), অর্থাৎ ঠিক তিন ঘণ্টা আগে। BJ Sports-এর শিডিউলিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিরিজের মাঝপথে এমন পরিবর্তনের কারণেই বেশিরভাগ ফ্যান পাওয়ারপ্লের খেলা মিস করেন। আপনি যদি টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য কেবল একটি সময় মাথায় রাখেন, তবে অন্তত দুটি ম্যাচে আপনি ভুল করতে বাধ্য।
আরও পড়ুন: এমএলসি ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল: সর্বশেষ অবস্থান এবং প্রতিটি দলের প্লে-অফ সমীকরণ
ইংল্যান্ড বনাম ভারত লাইভ স্ট্রিমিং ২০২৬: কোন দেশ থেকে কোথায় দেখবেন?
ভারতে স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কে (Star Sports Network) টিভিতে এবং জিওহটস্টারের (JioHotstar) মাধ্যমে মোবাইল ও ডেস্কটপে দুটি ফরম্যাটেরই প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। যুক্তরাজ্যের দর্শকরা টিভিতে স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট (Sky Sports Cricket) এবং ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে স্কাই গো (Sky Go) ও নাও (NOW) অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারবেন, যার জন্য পুরো সফরের স্যাটেলাইট সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিডিউলে ম্যাচ শুরুর সময় যখনই হোক না কেন, এই ব্রডকাস্ট রুটগুলো পুরো সিরিজটি কভার করবে।
টিপস ৩: চেস্টার-লি-স্ট্রিটেই সুর বাঁধা হবে, এরপর সব বদলে যাবে
সফরের শুরুটা হবে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে, যে ভেন্যুটি শুরুর দিকের ওভারগুলোতে পেসারদের দারুণ সাহায্য করার জন্য পরিচিত। এরপর ম্যাচ গড়ানোর সাথে সাথে পিচ ফ্ল্যাট ও ব্যাটিং-বান্ধব হতে থাকে। প্রথম ম্যাচের এই চ্যালেঞ্জ দুই দলের টপ অর্ডারকেই প্রথম বল থেকে আক্রমণাত্মক হওয়ার বদলে কিছুটা রয়েসয়ে খেলতে বাধ্য করবে।
২য় টি-টোয়েন্টির জন্য সিরিজ যখন ম্যানচেস্টারে পৌঁছাবে, কন্ডিশন স্পিনারদের পক্ষে কথা বলতে পারে, যা দুই অধিনায়কের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি পাল্টে দেবে। ইংল্যান্ডের মাটিতে অতিরিক্ত বাউন্স এবং ল্যাটারাল মুভমেন্টের বিপক্ষে ভারতের অতীত রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। তাই চেস্টার-লি-স্ট্রিটের প্রথম ম্যাচটি ভারতের জন্য একটি আসল পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
টিপস ৪: শেষ তিনটি ম্যাচ কেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সফর?
পাঁচটি ভিন্ন মাঠে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলার পর, বাকি ফিক্সচারগুলোর জন্য পুরো ফরম্যাটটাই বদলে যাবে। ১৪ জুলাই বার্মিংহামে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই লর্ডসে শেষ হওয়া সিরিজের শেষ তিন ম্যাচ হলো ওয়ানডে। এটি কেবল টি-টোয়েন্টির লম্বা সংস্করণ নয়। ৫০ ওভারের ম্যাচে বোলারদের রোটেশন, ব্যাটিংয়ের টেম্পো এবং স্কোয়াড ম্যানেজমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
মাঝপথে ফরম্যাট বদলানোর পর যারা দুটি ফরম্যাটই লাইভ উপভোগ করতে চান, তারা অনলাইনে Sports Live Hub-এ ইংল্যান্ড বনাম ভারত ম্যাচের ফ্রি লাইভ স্পোর্টস স্ট্রিম দেখতে পারেন, যেখানে চেস্টার-লি-স্ট্রিট থেকে শুরু করে লর্ডস পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ কভার করা হবে।
টিপস ৫: ১৯ জুলাই লর্ডসের তারিখটি সবার আগে মার্ক করে রাখুন
পুরো সফরে যদি আপনি একটিমাত্র তারিখ মনে রাখতে চান, তবে সেটি হোক ১৯ জুলাই। লর্ডসের এই ৩য় ওয়ানডের মাধ্যমে ১৯ দিনের এই সিরিজের পর্দা নামবে। ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ১১:০০ টায় (BST), যা পুরো সফরের সবচেয়ে আর্লি কিকঅফ বা দ্রুততম শুরুর সময়। এর মানে হলো, যুক্তরাজ্যের ফ্যানদের রোববারের সকালের রুটিন এর চারপাশে সাজাতে হবে, আর ভারতীয় ফ্যানদের অভ্যস্ত নাইট-ম্যাচের বদলে বিকেল ৩:৩০ মিনিটে (IST) টিভির সামনে বসতে হবে। ইংল্যান্ড বনাম ভারতের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পূর্ববর্তী সাতটি ম্যাচের কিকঅফ টাইম ঠিকঠাক ধরতে পারার আসল প্রাপ্তিই হলো এই লর্ডস ফাইনাল।
৪টি ভিন্ন কিকঅফ টাইম। ৮টি ভেন্যু। ২টি ফরম্যাট। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১৯ দিনের লড়াই। এটি এমন কোনো সিরিজ নয় যেখানে একবার অ্যালার্ম সেট করেই শেষ বাঁশি পর্যন্ত নিশ্চিন্ত থাকা যায়। প্রতিটি ম্যাচের আগে শুধু প্রথম ম্যাচের নয়, বরং সেদিনের টেবিলটি দেখে নিন।
ইংল্যান্ড বনাম ভারত সিরিজের লাইভ শিডিউল আপডেট, টস অ্যালার্ট এবং বল-বাই-বল কভারেজের জন্য যুক্ত থাকুন BJ Sports-এর সাথে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্র: ভারত ও যুক্তরাজ্যে ইংল্যান্ড বনাম ভারত সিরিজের লাইভ টেলিকাস্ট কোথায় দেখা যাবে?
ভারতে দর্শকরা স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্ক (Star Sports Network) এবং মোবাইল ও ডেস্কটপে জিওহটস্টার (JioHotstar)-এর মাধ্যমে খেলা দেখতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের দর্শকরা স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট (Sky Sports Cricket) চ্যানেলে অথবা স্কাই গো (Sky Go) ও নাও (NOW) অ্যাপে স্ট্রিম করতে পারবেন।
প্র: ইংল্যান্ড বনাম ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি কখন শুরু হবে?
প্রথম টি-টোয়েন্টি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিকেল ৫:৩০ মিনিটে (BST) শুরু হবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এটি রাত ১০:০০ টায় (IST) শুরু হবে।
প্র: সব টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কি একই সময়ে শুরু হবে?
না, ২য় এবং ৫ম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটি অন্যান্য ম্যাচের তিন ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বিকেল ২:৩০ মিনিটে (BST) শুরু হবে। ফ্যানদের উচিত একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে না রেখে প্রতিটি ম্যাচের কিকঅফ টাইম আলাদাভাবে চেক করে নেওয়া।
প্র: তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের জন্য কোন ভেন্যুগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে?
তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ বার্মিংহাম, কার্ডিফ এবং লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ জুলাই সকাল ১১:০০ টায় (BST) লর্ডসে এই সিরিজের সমাপ্তি ঘটবে।
ডিসক্লেইমার: এই আজকের ট্রেন্ডিং (ব্লগ) কেবল লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। আলোচিত বিষয়গুলো ভেবে দেখুন, বিশ্লেষণ করুন, আর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।
দ্য হান্ড্রেড মেন্স কম্পিটিশন ২০২৬-এ সর্বাধিক রান: টুর্নামেন্ট কাঁপানো শীর্ষ ৫ ব্যাটার
দ্য হান্ড্রেড মেন্স কম্পিটিশন ২০২৬-এ সর্বাধিক ক্যাচ: এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নিলেন কে?
সিপিএল ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল: প্লে-অফের দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে আছে?
আজকের এমএসজি বনাম টিআর (MSG vs TR) ম্যাচ পিচ রিপোর্ট: দ্য মেনস হান্ড্রেড ২০২৬ ফাইনালে কে এগিয়ে?

