Skip to main content

আজকের ট্রেন্ডিং

আইএলটি২০ ২০২৫: তাসকিন আহমেদের হাত ধরে কীভাবে পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য দেখাল শারজাহ ওয়ারিয়র্স?

আইএলটি২০ ২০২৫ তাসকিন আহমেদের হাত ধরে কীভাবে পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য দেখাল শারজাহ ওয়ারিয়র্স

আইএলটি২০-এর ২০২৫ মৌসুমে শারজাহ ওয়ারিয়র্সের খেলা যারা দেখেছেন, তাদের কপালে নিশ্চয়ই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দলটির পারফর্মেন্স ছিল একেবারে রোলার-কোসটারের মতো। কোনো কোনো দিন তাদের মনে হয়েছে বিশ্বমানের অপ্রতিরোধ্য এক দল, আবার কখনো বানের জলের মতো রান খরচ করে প্রতিপক্ষকে সুবিধা করে দিয়েছে। তবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে শারজাহর “পাওয়ারপ্লে ডমিনেশন” নিয়ে যে চর্চা হয়েছে, তার নেপথ্য নায়ক আসলে একজনই, তিনি আমাদের তাসকিন আহমেদ।

নাইট রাইডার্সের টপ অর্ডারে ধস নামানো

শারজাহর বোলিং অ্যাটাক আসলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা বুঝতে হলে আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষের ম্যাচটির দিকে তাকাতে হবে। ওটাই ছিল একমাত্র ম্যাচ যেখানে সত্যিকারের “আধিপত্য” দেখা গেছে এবং তা ছিল রীতিমতো ভীতিজাগানিয়া। তাসকিন আহমেদের নেতৃত্বে শারজাহর বোলাররা নাইট রাইডার্সকে ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ১০ রানে ৪ উইকেটে আটকে ফেলেছিল।

এই নির্দিষ্ট ম্যাচটিতে সব পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে কাজে লেগেছিল। তাসকিন পিচে বল হিট করেছেন জোরে, সুইং করিয়েছেন এবং ব্যাটারদের দিশেহারা করে তুলেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাসকিন যখন যোগ্য সমর্থন পান, তখন শারজাহ যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তবে এমন ধ্বংসলীলা ছিল টুর্নামেন্টে কালেভদ্রে দেখা যাওয়া এক ঘটনা, যা নিয়মিত ঘটেনি।

তাসকিন উইকেট পেলেন, কিন্তু সঙ্গ পেলেন না

তাসকিন আহমেদ যে কারণে আলাদা হয়ে উঠেছেন তা শুধু তার গতি নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়াটা সোনার চেয়েও দামি, আর তাসকিন বারবার সেটাই করে দেখিয়েছেন। জর্ডান কক্স বা সেদিকুল্লাহ আতালের মতো বিপজ্জনক ব্যাটারদের তিনি ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে সাজঘরে ফিরিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি ছিলেন দলের প্রধান অস্ত্র।

দুবাই ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি সেই ম্যাচের সেরা বোলার ছিলেন। তিনি একাই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, কিন্তু ক্রিকেট তো আর একা খেলার বিষয় নয়। এক প্রান্তে তাসকিন যখন ব্যাটারদের শ্বাসরোধ করে ফেলছিলেন, তখন অন্য প্রান্তে মাথিশা পাথিরানার মতো সতীর্থরা সেই চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ফলে তাসকিনের তৈরি করা চাপ প্রায়ই অন্য প্রান্তের আলগা বোলিংয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

দলের পারফর্মেন্স কেন ধারাবাহিক ছিল না?

এখানেই “টোটাল ডমিনেশন” বা পূর্ণ আধিপত্যের দাবিটা মিথ্যা হয়ে যায়। আপনি কোনোভাবেই বলতে পারেন না যে শারজাহ পাওয়ারপ্লে শাসন করেছে, যখন দেখা যায় এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে তারা কোনো উইকেট না হারিয়েই ৫৪ রান দিয়ে বসেছে। ওই ম্যাচটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, তাসকিন জ্বলে না উঠলে এই বোলিং অ্যাটাক কতটা নখদন্তহীন।

তাসকিন নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাওয়ার আগে দলের বোলিংকে “কার্যকারিতাহীন” বলা হচ্ছিল। যারা Sportslivehub-এ লাইভস্ট্রিমিং দেখেছেন, তারা তাসকিন বল হাতে থাকলে এবং না থাকলে দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের পার্থক্যটা সহজেই ধরতে পেরেছেন। শারজাহ দল হিসেবে ডমিনেট করেনি, বরং তারা তাসকিনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভরসা করে পার করেছে। তাসকিন দুর্দান্ত ছিলেন ঠিকই, কিন্তু দলের বাকিরা তাকে সেভাবে সহায়তা করতে না পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই তাদের হাতছাড়া হয়েছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ২০২৫ সালে শারজাহ ওয়ারিয়র্সের পাওয়ারপ্লেতে যে জাদুকরী মুহূর্তগুলো এসেছে, তার সবটুকুই প্রায় তাসকিন আহমেদের অবদান। তাসকিন তার আগ্রাসন এবং উইকেট শিকারের দক্ষতা দিয়ে দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দিয়েছেন। ১০ রানে ৪ উইকেটের সেই স্কোরকার্ড দেখতে যতই সুন্দর লাগুক না কেন, পুরো মৌসুমের চিত্র বলে দেয়, একা কোনো বোলারের পক্ষে পুরো টুর্নামেন্ট জেতানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে শারজাহ ওয়ারিয়র্স যদি শিরোপার দাবিদার হতে চায়, তবে বোলিং ইউনিটের বাকি সদস্যদেরও তাসকিনের মতো পারফর্মেন্সের মানদণ্ডে পৌঁছাতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

১. শারজাহ ওয়ারিয়র্সের সেরা বোলিং পারফর্মেন্স কোনটি ছিল?

তাদের সেরা মুহূর্তটি ছিল আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে, যেখানে তারা পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষকে ১০ রানে ৪ উইকেটে ধসিয়ে দিয়ে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েছিল।

২. দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোলার কে ছিলেন?

নিঃসন্দেহে তাসকিন আহমেদ। তিনি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের উইকেট নিয়েছেন এবং অন্য বোলাররা ব্যর্থ হলেও তিনি চাপ সৃষ্টি করে গেছেন।

৩. শারজাহ কি সব ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে ভালো বল করেছে?

না, তাদের পারফর্মেন্স মিশ্র ছিল। যেমন, এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে তারা কোনো উইকেট না নিয়েই ৫4 রান খরচ করেছিল, যা তাদের ধারাবাহিকতার অভাব প্রমাণ করে।

 

ডিসক্লেইমার: এই আজকের ট্রেন্ডিং (ব্লগ) কেবল লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। আলোচিত বিষয়গুলো ভেবে দেখুন, বিশ্লেষণ করুন, আর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।

 

খেলার জগতে -এ আপনাকে স্বাগতম! শুধু আপনার জন্য সাজানো Bjsports এক্সক্লুসিভ আজকের ট্রেন্ডিং ব্লগ এবং ফিরে যান ক্রিকেটের সোনালি নস্টালজিয়ায়, উপভোগ করুন প্রতিদিনের দারুণ সব আপডেট, আর থাকুন সবসময় এগিয়ে স্পোর্টস দুনিয়ার সবার আগে! একটিও মুহূর্ত মিস করবেন না—এখনই যোগ দিন রোমাঞ্চে ভরা এই দুনিয়ায়!

আরো আজকের ট্রেন্ডিং

বিগ ব্যাশ লিগ ২০২৬ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রান কার? জেনে নিন BJ Sports-এ

বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) ২০২৬ মৌসুম যেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংজ্ঞাই নতুন করে লিখে দিয়ে গেল। ‘সামার ক্রিকেট’ বলতে যা বোঝায়, তার সবটাই ছিল এই মৌসুমে, রানের বন্যা আর চার-ছক্কার ফুলঝুরি।...

বিপিএল ২০২৬: আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের চূড়ান্ত তালিকা—শুধুমাত্র বিজে স্পোর্টসে

বিপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার আগে চারদিকে রব ছিল, এটি হতে যাচ্ছে পাওয়ার হিটারদের টুর্নামেন্ট। ২০০ প্লাস স্কোর হবে ডালভাত, আর বোলাররা হবেন কেবল দর্শক। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে চিত্রনাট্যটা সম্পূর্ণ উল্টে...

নির্ভুলতার হার ৮৫%! বিবিএল ২০২৫-২৬ ম্যাচে বিজে স্পোর্টসের ডেটা-নির্ভর প্রেডিকশনের রহস্য

বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) কোনো ম্যাচের ফলাফল কি কেবল ভাগ্য, নস্টালজিয়া, কিংবা "খাতা-কলমে এই দলটা শক্তিশালী", এসবের ওপর নির্ভর করে? আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কিন্তু এখন আর অনুমানের খেলা নয়। বরং...

ডব্লিউপিএল ২০২৬ সমীকরণ: ফাইনালে উঠবে কারা? BJ Sports-এর বিশ্লেষণ

উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ (WPL) মানেই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, আর ডব্লিউপিএল ২০২৬ মৌসুমও তার ব্যতিক্রম নয়। লিগ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ফাইনালে ওঠার সমীকরণ ততই জটিল ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে। BJ...