ব্লগ

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ জুলাই: শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান (২য় টেস্ট – ৫ম দিন)

শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান

শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান (দ্বিতীয় টেস্ট – ৫ম দিন)

সামনে ৫০৮ রানের অসম্ভব এক লক্ষ্য। জিততে হলে পাকিস্তানকে ইতিহাস গড়তে হতো। তবে জয় অসম্ভব হলেও গল টেস্টে টপঅর্ডারের দৃঢ়তায় ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা।

পঞ্চম দিনের খেলা যখন শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪১৯ রান, আর লঙ্কানদের ৯ উইকেট। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের এই ম্যাচ জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা টেস্ট ইতিহাসে রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ডটি ৪১৮ রানের।

তবে বৃষ্টি কিংবা বাবর আজমের থিতু ব্যাটিংয়েই এই ম্যাচ ড্র করার একমাত্র সম্ভাবনা ছিল। তবে তা হতে দেন নি প্রবাথ জয়সুরিয়া এবং রমেশ মেন্ডিস। ২ উইকেটে পাকিস্তান তুলে ফেলেছিল ১৭৬ রান। সেখান থেকে আর ৮৫ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে গেছে বাবর আজমের দল। প্রবাথ জয়াসুরিয়া এবং রমেশ মেন্ডিসের ঘূর্ণিতে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস থেমেছে ২৬১ রানে।

শ্রীলঙ্কা পেয়েছে ২৪৬ রানের বিশাল জয়। সিরিজের প্রথম টেস্টে জিতেছিল পাকিস্তান। লঙ্কানদের এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

১ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে পাকিস্তান। পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে শ্রীলঙ্কার বোলাররা। হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় এসে দিনের শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন ইমাম উল হক। ৯০ বলে ৪৯ রান করে রমেশ মেন্ডিসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় ইমাম ও বাবরের ৫৫ রানের জুটি। এরপর তৃতীয় উইকেটে ১৪১ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়ে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।

কিন্তু মধ্যাহ্নভোজ বিরতির আধঘণ্টা আগে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জয়াসুরিয়ার বল ছাড়তে গিয়ে বোল্ড হন ৩৭ রান করা রিজওয়ান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম স্পিনারের বলে বোল্ড হলেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পর মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।

রিজওয়ান ফেরার পর বাবরের সঙ্গে আর কেউ উইকেটে দাঁড়াতে পারেননি। ফাওয়াদ আলম (১) এসে অযথা রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। এরপর আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।

দ্বিতীয় সেশনে শুরুর দিকে বাবরকে তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের সুবাস পাইয়ে দেন জয়াসুরিয়া। ১৪৬ বলে ৮১ রান করে এলবিডব্লিউর শিকার হন পাকিস্তান অধিনায়ক। বাবর যাওয়ার পরের ওভারেই মোহাম্মদ নওয়াজকে (১২) হারিয়ে হারটা স্রেফ সময়ের ব্যাপারে পরিণত করে পাকিস্তান। দলের পক্ষে ইয়াসির শাহ ২৭, নাসিম শাহ ১৮ এবং হাসান আলী ১১ রান করে সাজঘরে ফিরেন।

আগের টেস্টের মতো এই টেস্টেও পাকিস্তানের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন লঙ্কান স্পিনার প্রবাথ জয়াসুরিয়া। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ রানে ৫ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা জয়াসুরিয়া এই সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও (১৭) হয়েছেন।

এছাড়া রমেশ মেন্ডিস ১০১ রানে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। ২য় ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। আর সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করে প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হয়েছেন প্রবাথ জয়াসুরিয়া।


শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান এর স্কোরবোর্ড

শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস) – ৩৭৮/১০ (১০৩.০)

পাকিস্তান (১ম ইনিংস) – ২৩১/১০ (৮৮.১)

শ্রীলঙ্কা (২য় ইনিংস) – ৩৬০/৮ (ডি) (৯১.৫)

পাকিস্তান (২য় ইনিংস) – ২৬১/১০ (৭৭.০)

ফলাফল – শ্রীলঙ্কা ২৪৬ রানে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – ধনঞ্জয়া ডি সিলভা

প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ – প্রবাথ জয়াসুরিয়া


শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান


শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান ম্যাচের একাদশ

শ্রীলঙ্কা দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), নিরোশান ডিকভেলা (উইকেট রক্ষক), কুশল মেন্ডিস, ওশাদা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, রমেশ মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, প্রবাথ জয়াসুরিয়া, অসিথা ফার্নান্দো, এবং ডুনিথ ওয়েলালাই
পাকিস্তান বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেট রক্ষক), আবদুল্লাহ শফিক, ফাওয়াদ আলম, আগা সালমান, ইমাম-উল হক, মোহাম্মদ নওয়াজ, নোমান আলী, হাসান আলী, ইয়াসির শাহ এবং নাসিম শাহ।

আরো ব্লগ