ব্লগ

ক্রিকেট হাইলাইটস, ১৮ আগস্ট: জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত (১ম ওডিআই)

জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত

জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত (১ম ওডিআই) – হাইলাইটস

ভারতের বিপক্ষে এতদিন টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে হারের লজ্জার রেকর্ডটি ছিল যৌথভাবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের দখলে। সেই রেকর্ডটি বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এককভাবে নিজেদের দখলে নিল রোডেশীয়রা। টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে টানা ১৩ ম্যাচে হেরেছে তারা। বাংলাদেশকে ভারত হারিয়েছে টানা ১২টি ম্যাচ।

২০১৬ সালের ১৫ জুন থেকে ২০২২ সালের ১৮ আগস্ট- এই ছয় বছর দুই মাস পর ওয়ানডেতে আবারও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও জিম্বাবুয়ে। ছয় বছর আগে যে ভেন্যুতে দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল, সেই হারারে স্পোর্টস ক্লাবেই গতকাল আবার দেখা দুই দলের। ভেন্যুর মতো বদলায়নি ম্যাচের ফলও। ছয় বছর আগের সেই ম্যাচের মতো গতকালও ১০ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত।

ছয় বছর আগে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে অলআউট করে ১২৪ রানের লক্ষ্য ২১.৫ ওভারেই ছুঁয়ে ফেলে ভারত। গতকাল জিম্বাবুয়েকে ৪০.৩ ওভারে ১৮৯ রানে অলআউট করে লোকেশ রাহুলের ভারত লক্ষ্য ছুঁয়েছে ৩০.৫ ওভারে। শিখর ধাওয়ান ৮১ রানে ও শুবমান গিল ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১১৩ বলের ইনিংসে ধাওয়ান মেরেছেন ৯টি চার। গিলের ৭২ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ চার ও ১ ছক্কায়।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন রিচার্ড এনগারাভা। ৭ ওভারে ৪০ রান দিলেও কোনো উইকেট নিতে পারেননি তিনি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়লেও দুজনেই বিদায় নেন মাত্র ১ রানের ব্যবধানে। দলীয় ২৫ রানে দীপক চাহারের শিকার হন কাইয়া। মারুমানি ফেরেন ২৬ রানে। ফেরার আগে কাইয়া ৪ ও মারুমানি ৮ রান করেন।

ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা চাহার ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তার বোলিং বৈচিত্রে বিধ্বস্ত হন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা। কখনো সুইঙ্গারে রোডেশীয়দের ভুগিয়েছেন তো কখনো বলের লেংথে। পরে আরও একটি উইকেট শিকার করেন তিনি। তার মতো তিনটি উইকেট শিকার করেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং অক্ষর প্যাটেলও।

সফরকারীদের টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও তুলনামূলকভাবে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ‘ভালোই’ করেছিল। ছয় নম্বরে রেজিস চাকাভা খেলেন ৫১ বলে ৩৫ রানের ইনিংস। রায়ান বার্ল আউট হন ১১ রান করে। এরপর লুক জংওয়ে ১৩ রানে বিদায় নিলে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১১০ রান।

সেখান থেকে রানটাকে ১৮০-তে নিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের নবম উইকেট জুটি। যা জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ইতিহাসে চতুর্থ সেরা জুটি। ৬৫ বলে ৭০ রান যোগ করেন ব্র্যাড ইভান্স ও রিচার্ড এনগারাভা। ইভান্স ২৯ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন, দশে নামা এনগারাভা করেছে ৪২ বলে ৩৪ রান। এছাড়া ভিক্টর নিয়াউচি’র ব্যাট থেকে আসে ৮ রান।

শেষ পর্যন্ত ৪০.৩ ওভারে ১৮৯ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে। ভারতের হয়ে চাহার, প্রসিদ্ধ, ও অক্ষর প্যাটেল ছাড়া একটি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সিরাজ। ৭ ওভারে ২৭ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন দীপক চাহার।

তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ী হয়ে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারী ভারত। আগামীকাল সিরিজের ২য় ম্যাচে একই সময় এবং একই ভেন্যুতে দুই দল মুখোমুখি হবে।


জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত এর স্কোরবোর্ড

জিম্বাবুয়ে – ১৮৯/১০ (৪০.৩)

ভারত১৯২/০ (৩০.৫)

ফলাফল – ভারত ১০ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – দীপক চাহার


জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত


জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত ম্যাচের একাদশ

জিম্বাবুয়ে রেজিস চাকাবভা (অধিনায়ক ও উইকেট রক্ষক), তাদিওয়ানাশে মারুমানি, শন উইলিয়ামস, ইনোসেন্ট কাইয়া, ওয়েসলি মাধভেরে, সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্ল, ব্র্যাড ইভান্স, লুক জংওয়ে, ভিক্টর নিয়াউচি এবং রিচার্ড নাগারাভা।
ভারত কেএল রাহুল (অধিনায়ক), সঞ্জু স্যামসন (উইকেট রক্ষক), শিখর ধাওয়ান, ইশান কিশান, দীপক হুডা, অক্ষর প্যাটেল, শুবমান গিল, দীপক চাহার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, কুলদীপ যাদব, এবং মোহাম্মদ সিরাজ।

আরো ব্লগ