Skip to main content

ম্যাচ হাইলাইটস

ক্রিকেট হাইলাইটস, ০২ অক্টোবর : পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৭ম টি২০)

পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৭ম টি২০)– হাইলাইটস

এটি দুর্ভাগ্যজনক যে সিরিজের সমাপ্তিটি এত কম রোমাঞ্চকর ছিল কারন সেখানে সেরা আন্তর্জাতিক টিটোয়েন্টি ক্রিকেটের কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। এটি ইংল্যান্ডের শক্তিশালী সামগ্রিক দলের পারফরম্যান্সের কারণে হয়েছে, তাদের উইকেটে ২০৯ রানের স্কোর দিয়ে শুরু হয়েছিল, যা গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড তাড়া করতে বাধ্য করে। তারা শেষ পর্যন্ত তাদের ২০ ওভারে উইকেটে ১৪২ রান করে। ৬৭ রানে জয়ের সাথেফরম্যাটে চতুর্থ বৃহত্তম পাকিস্তানের ব্যবধানেদুর্দান্ত বোলিং দিয়ে ইংল্যান্ডের জন্য সিরিজের জয়লাভ করেছে।

ডেভিড মালান এবং ক্রিস ওকসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে লাহোরে ইংল্যান্ড ৬৭ রানে জিতেছে। এই জয়ে অতিথিরা আগের দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে।

প্রথমে ব্যাট করার সময়, ইংল্যান্ড অ্যালেক্স হেলস এবং ফিল সল্ট উভয়ের সাথে ভাল শুরু করেছিল, কিন্তু তারা এটিকে উল্লেখযোগ্য স্কোরে পরিণত করতে পারেনি। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে, দাউদ মালান খেলায় প্রবেশ করেন এবং অবিলম্বে দুর্দান্ত ফর্মে উপস্থিত হন কারণ তিনি অনায়াসে শূন্যস্থান পূরণ করেন। বেন ডাকেটের সহায়তায় স্কোরবোর্ড আপডেট রাখে ইংল্যান্ড।

মাত্র 19 বলে 30 রান করে ডাকেট রান আউট হলে মালানের সঙ্গে 54 রানের জুটি শেষ হয়ে যায়। হ্যারি ব্রুক তাদের উপর চমত্কার আক্রমণ শুরু করেছিল ঠিক যেমন দেখে মনে হয়েছিল যে পাকিস্তান একটি ফাঁক খুঁজে পেয়েছে।

সিরিজ নির্ধারণী খেলায়, ব্রুক এবং মালানের বাঁডান সংমিশ্রণে সেঞ্চুরি স্ট্যান্ড গড়েছিল যা ইংল্যান্ডকে 200 রানের উপরে নিয়ে আসে। মালান সিরিজের প্রথম ফিফটিতে জায়গা করে নেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৭৮ রানে পৌঁছেন। হ্যারি ব্রুকও মাত্র ৩১ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে পাকিস্তানের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্য স্থির করেন।

তাড়া করার প্রথম দুই ওভারেই মোহাম্মদ রিজওয়ান বাবর আজম আউট হয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয়। স্বাগতিকরা দ্রুত ৩৩/ নেমে যাওয়ায় ইফতিখার আহমেদও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি।

শান মাসুদ এবং খুশদিল শাহ স্কোরবোর্ডকে সচল রেখেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে শেষ পর্যন্ত একটি বড় স্ম্যাশ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং ক্রমবর্ধমান রান রেটের কারণে তার উইকেট হারান। পাকিস্তান যখন অতল গহ্বরে নামতে থাকে, আসিফ আলী এবং মোহাম্মদ নওয়াজের মতো ব্যক্তিত্বরাও অবদান থেকে দূরে সরে যান।

মাসুদ, ইতিমধ্যে, একটি নিরর্থক প্রচেষ্টায় আরও একটি পঞ্চাশ প্লাস স্কোর করে একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে তার খ্যাতি মজবুত করেছেন। জবাবে, স্বাগতিকরা মাত্র 142/8 সংগ্রহ করতে পারে, ইংল্যান্ডকে 67 রানে জয় দেয়। এভাবে সাত ম্যাচের সিরিজ ব্যবধানে জিতেছে সফরকারীরা।

সুযোগে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অভাব এবং বোলারের প্রতিবাদের অভাব ইঙ্গিত দেয় যে খেলা শেষ হওয়ার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। যাইহোক, এই সাতটি খেলার পর সবচেয়ে বড় ছাপ ছিল ইংলিশ দলগুলোর পাকিস্তানি সফর কতদিন দেরিতে হয়েছে। এই সিরিজ থেকে বিশেষ করে বিশ্বকাপের আলোকে এটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা।


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড এর স্কোরবোর্ড

পাকিস্তান – ১৪২/৮ (২০.০)

ইংল্যান্ড২০৯/৩ (২০.০)

ফলাফল – ইংল্যান্ড ৬৭ রানে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – দাউদ মালান

প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ হ্যারি ব্রুক


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৭ম টি২০)– হাইলাইটস


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের একাদশ

পাকিস্তান বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেট রক্ষক), শান মাসুদ, ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, আসিফ আলী, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, হারিস রউফ, মোহাম্মদ হাসনাইন
ইংল্যান্ড ফিলিপ সল্ট (উইকেট রক্ষক), অ্যালেক্স হেলস, ডেভিড মালান, বেন ডাকেট, হ্যারি ব্রুক, মঈন আলী (অধিনায়ক), স্যাম কুরান, ডেভিড উইলি, ক্রিস ওকস, আদিল রশিদ, রিস টপলে

ক্রিকেট হাইলাইটস, ০২ অক্টোবর: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২য় টি২০)

ক্রিকেট হাইলাইটস, ০৩ অক্টোবর: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২য় টি২০)

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২য় টি২০) – হাইলাইটস

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছে ভারত। রবিবার গুয়াহাটিতে তেম্বা বাভুমাদারকে ১৬ রানে হারিয়েছেন রোহিত শর্মা। জয়ের জন্য ২৩৮ রান তাড়া করে সফরকারীরা ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ভারতীয় বোলারদের দুর্দশা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বাভুমা। যদিও রোহিত ম্যাচ শুরুর আগে ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তাণ্ডব চালায়। অধিনায়ক রোহিত ছাড়াও ঝড়ো গতিতে রান করেন লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব। দীনেশ কার্তিককেও শেষ কয়েক বলে উপযুক্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ২৩৭ রান করে এবং ৩ উইকেট নিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২০ ওভারের ম্যাচে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ ইনিংস।

অধিনায়ক রোহিত ৩৭ বলে ৪৩ রান করেন। ৭টি চার ও ১টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে। সহ-অধিনায়ক রাহুল তার চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। ২৮ বলে ৫৭ রান করেন তিনি। ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় রান করেন। মাত্র ১ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি কোহলি। ২৮ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন সাবেক এই অধিনায়ক। শেষ ওভারে ব্যাট না পাওয়ায় হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। কোহলির ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন সূর্যকুমার। রোববার ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো বোলারই তাদের আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি। ২২ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কার সাহায্যে ৬১ রান করেন সূর্যকুমার। কোহলির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে আউট হন সূর্যকুমার। শেষ কয়েক বলে কার্তিকও দুর্দান্ত প্রদর্শন করেছিলেন। ৭ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ব্যাট হাতে মারেন একটি চার ও দুটি ছক্কা।

কেশব মহারাজ দর্শকদের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন, তিনি দুটি উইকেট নিয়ে ২৩ রান করেন। রোহিত ও রাহুলকে আউট করেন তিনি। কাগিসো রাবাদা ৪ ওভারে ৫৭ রান দেন। ৪ ওভারে ৫৪ রান দেন ওয়েন পার্নেল। রবিবার ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সুবিধা নিতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো বোলার। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। প্রথম ওভারেই মেডেন নেন দীপক চাহার। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আরশদীপ বাভুমা এবং রিলি রুশোকে ফেরত পাঠান। কেউ খাতা খুলতে পারেনি। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলের পরই নিভেল স্টেডিয়ামের আলো। খেলাটি প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি দিতে হয়েছিল।

আলো আসার পর খেলা শুরু হলেও সফরকারীরা সতর্ক ব্যাটিং করে। উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন তারা। ওভার প্রতি রানের টার্গেট বাড়ানোর পাশাপাশি চাপও বাড়ল। শেষ পর্যন্ত চাপ সামলাতে পারেনি বাভুমার দল। কুইন্টন ডি কক এবং এইডেন মার্করাম দলের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শুরুতেই তৈরি হওয়া চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি সফরকারীরা। দুজনের মধ্যে মার্করাম ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। তবে রান তোলার গতি খুব একটা বাড়েনি। ১৯ বলে ৩৩ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন মার্করাম। মারেন ৪টি চার ও ১টি ছক্কা। ডি’কক একদিনের জন্য উইকেট রেখেছিলেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। ডি’ককের সাথে চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৭৪ রান করেন তিনি। মিলারের ব্যাট থেকে এসেছে অনবদ্য সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪৭ বলে ১০৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৮ চার ও ৭ ছক্কায় তার ইনিংস শেষ করেন। ডি কক ৪৮ বলে ৬৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা।

সিরিজ জিতলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছেন রোহিতের বোলারদের কঙ্কালের অবস্থা। আরশদীপ শুরুতে ২ উইকেট নিলেও শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৬২ রান দেন। যদিও তিনি 2 উইকেট নিয়ে ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার। অক্ষর ৫৩ রানে ১ উইকেট নেন। হারশাল প্যাটেল ৪৫ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। সবচেয়ে কম রান দেন দীপক চাহার। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচ করেন তিনি। ৩৭ রান দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বোলারদের খারাপ অবস্থা চিন্তা করবে রাহুল দ্রাবিড়কে।

ভারতীয় দল ইন্দোরের হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ৪ অক্টোবর, ২০২২, মঙ্গলবার তাদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে খেলবে।


ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা এর স্কোরবোর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা – ২৩৭/৩ (২০.০)

ভারত – ২২১/৩ (২০.০)

ফলাফল – ভারত ১৬ রানে জয়ী।

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – কেএল রাহুল


ক্রিকেট হাইলাইটস, ০৩ অক্টোবর: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২য় টি২০)


ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের একাদশ

ভারত রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), ঋষভ পন্ত (উইকেট রক্ষক), কেএল রাহুল, সূর্যকুমার যাদব, দিনেশ কার্তিক, বিরাট কোহলি, অক্ষর প্যাটেল, হার্শাল প্যাটেল, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, দীপক চাহার, এবং আর্শদীপ সিং।
দক্ষিণ আফ্রিকা টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেট রক্ষক), রাইলি রুশো, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করাম, ট্রিস্টান স্টাবস, কাগিসো রাবাদা, ওয়েইন পার্নেল, কেশব মহারাজ, তাবরিজ শামসি এবং লুঙ্গি এনগিডি ।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ৩০ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৬ষ্ঠ টি২০)

পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৬ষ্ঠ টি২০) – হাইলাইটস

ফিল সল্টের তাণ্ডবে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে ইংল্যান্ড। বাবর আজমের ৮৭ রানের ঝড়ো ইনিংসটা বৃথাই গেলো ইংলিশ উইকেটরক্ষকের উজ্জ্বলতায়। সল্টের ৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে সাত ম্যাচ সিরিজে ৩-৩ সমতায় ফিরেছে ইংলিশরা।

লাহোরে শুক্রবার রাতে ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংলিশরা তা পেরিয়ে যায় ৩৩ বল হাতে রেখেই। ফলে রোমাঞ্চকর সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন পরিণত হয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।

টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংলিশ দলপতি মইন আলী। আগের ম্যাচে পিঠে সমস্যা অনুভব করা উইকেট রক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও পেসার হারিস রউফকে ছাড়াই মাঠে নামে পাকিস্তান। অভিষিক্ত মোহাম্মদ হারিস ছক্কায় রানের খাতা খোলার পর আদিল রশিদের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেন মাত্র ৭ রান করে। তিন নম্বরে নেমে শূন্য রানে ফেরেন শান মাসুদ।

১৫ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নিয়ে যান বাবর ও হায়দার আলী। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৩২ বলে ৪৭ রানের জুটি। একটি করে চার ও ছক্কায় ১৪ বলে ১৮ রান করেন হায়দার। এরপর রানের গতিকে তরান্বিত করেন ইফতিখার আহমেদ। ২টি করে চার ও ছক্কায়, ২১ বলে ৩১ রান করেন তিনি।

৪১ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান বাবর। রিচার্ড গ্লিসনকে ছক্কায় হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম তিন হাজার রানের রেকর্ডে বিরাট কোহলির পাশে বসেন তিনি। রিস টপলির শেষ ওভারে পাকিস্তান তোলে ২০ রান। প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন বাবর। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে শেষ বলে আউট হন মোহাম্মদ নওয়াজ। শেষ পর্যন্ত বাবর ৭ চার ও ৩ ছক্কায়, ৫৯ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ফলে ৬ উইকেটে ১৬৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের হয়ে স্যাম কুরান এবং ডেভিড উইলি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া রিস টপলি এবং রিচার্ড গ্লিসন ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যালেক্স হেলস ও সল্টের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ড। ওপেনিংয়ে নামা সল্ট পাওয়ার প্লেতে রীতিমত তাণ্ডব চালিয়েছেন পাকিস্তানি বোলারদের ওপর। ১৯ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে ৮২ রান তোলে ইংল্যান্ড।

নওয়াজের করা ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন সল্ট, এক বল পর আরেকটি। পরের ওভারে ঝড় বয়ে যায় শাহনওয়াজ ধানীর ওপর দিয়ে। দুই ওপেনারই মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ওভারে আসে ২২ রান। পরের ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে টানা তিনটি চার মারেন হেলস।

তিন ওভারেই ইংল্যান্ডের রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ! পরের ওভারে হেলস বিদায় নেন ১২ বলে ২৭ রান করে। পঞ্চম ওভারে নওয়াজকে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন সল্ট। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ৮২।

দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড মালানের সঙ্গে তিনি মাত্র ৩৪ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। মালান ৫ চারে ১৮ বলে ২৬ রান করে এলবিডব্লিউ হন শাদাব খানের বলে।

এরপর বেন ডাকেটের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সল্ট। চার বাউন্ডারিতে, ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ডাকেট। আর ৪১ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন সল্ট। তাঁর এই ইনিংসে ১৩ বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি এই ব্যাটার।

পাকিস্তানের হয়ে শাদাব খান ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। আগামীকাল রবিবার অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড এর স্কোরবোর্ড

পাকিস্তান – ১৬৯/৬ (২০.০)

ইংল্যান্ড১৭০/২ (১৪.৩)

ফলাফল – ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – ফিলিপ সল্ট


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের একাদশ

পাকিস্তান বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হারিস (উইকেট রক্ষক), ইফতিখার আহমেদ, শান মাসুদ, হায়দার আলী, আসিফ আলী, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, আমির জামাল, এবং শাহনওয়াজ ধানী।
ইংল্যান্ড মঈন আলী (অধিনায়ক), ফিলিপ সল্ট (উইকেট রক্ষক), ডেভিড মালান, অ্যালেক্স হেলস, বেন ডকেট, ডেভিড উইলি, হ্যারি ব্রুক, স্যাম কুরান, আদিল রশিদ, রিচার্ড গ্লিসন এবং রিস টপলি।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ১ অক্টোবর: সিপিএল ২০২২ (ফাইনাল) – বার্বাডোজ রয়্যালস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস

বার্বাডোজ রয়্যালস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস (ফাইনাল) – হাইলাইটস

শিরোপা জেতার যুদ্ধে, সিপিএল ২০২২ এর ফাইনাল ম্যাচে প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম, গায়ানাতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছিল বার্বাডোজ রয়্যালস ও জ্যামাইকা তালাওয়াস। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বার্বাডোজ রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ভাল  একটি লক্ষ্য দাড় করায় বিপরীত দলের জন্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই খুব সহজে লক্ষ্যে পৌছে যায় জ্যামাইকা তালাওয়াস। ফলে টুর্নামেন্টের বিজেতা হয় তারা। সেই সাথে জ্যামাইকা তালাওয়াস এর হয়ে অসাধারণ বোলিং করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব জিতে নেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন এবং সিরিজ সেরার খেতাব পান ব্র্যান্ডন কিং। 

প্লে-অফে তারা উঠেছিল কোনোমতে, চার নম্বর দল হয়ে। সেই জ্যামাইকা তালাওয়াসই দুর্দান্ত খেলে জিতলো প্লে-অফের নকআউট দুই ম্যাচ। এবার ফাইনালে এসে তারাই উড়িয়ে দিলো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল বার্বাডোজ রয়্যালসকে।

শনিবার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ফাইনালে কাইল মায়ার্সের বার্বাডোজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রভম্যান পাওয়েলের জ্যামাইকা। এক ব্রেন্ডন কিং ঝড়েই একেবারে উড়ে গেছে বার্বাডোজ রয়্যালস। রান তাড়ায় তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শামারাহ ব্রুকস। ফলে ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যও ২৩ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় জ্যামাইকা।

টসে জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন বার্বাডোজ রয়্যালস এবং জ্যামাইকা তালাওয়াসকে পাঠায় বোলিং এর জন্য। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেননি দুই ওপেনার রাহকিম কর্নওয়াল এবং কাইল মায়ার্স। ২ চার ও ৪ ছয়ের সাহায্যে ২১ বলে ৩৬ করেন রাহকিম। আর মায়ার্স ৬ চারের সাহায্যে ১৯ বলে ২৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

তবে আজম খানের ৪০ বলে ৫১ রান বার্বাডোজকে বড় অক্সিজেন দেয়। তার এই রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছয়। এছাড়া ১৯ বলে ১৭ করেন জেসন হোল্ডার। বাকিরা অবশ্য কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। নাজিবুল্লাহ জাদরান ১২ বলে ৬, করবিন বোশ ৫ বলে ৭, ডেভন থমাস ৩ বলে ৭, মুজিব উর রহমান ১ বলে ১ রান করেন। শেষে ৭ রান এক্সট্রা সহ ১৬২ রানের লক্ষ্য দাড় করে তারা। 

জামাইকা তালাওয়াসের হয়ে ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট এবং নিকলসন গর্ডন ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ইমাদ ওয়াসিম নেন ১ উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জ্যামাইকা তালাওয়াজ। প্রথম ওভারেই কেনার লুইসের উইকেট হারায় তারা। তখন দলের রান মাত্র ১। গোল্ডেন ডাক করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন কেনার লুইস।

তবে দলের হাল ধরেন ব্রেন্ডন কিং। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শামারাহ ব্রুকস। ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ব্রেন্ডন কিং। তার এই ইনিংসে ছিল ১৩টি চার এবং ২টি ছক্কার মার।

৩৩ বলে ৪৭ করে আউট হন শামার ব্রুকস। তার এই ইনিংসটি সাজানো ২টি ছয় এবং ৬টি চারের সাহায্যে। এই জুটিই শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেয় জ্যামাইকাকে। এর পরে ব্রুকস আউট হলে ক্রিজে আসেন রোভম্যান পাওয়েল। তিনি একটি ছক্কার সাহায্যে ১৩ বলে ১৪ করে অপরাজিত থাকেন।

জ্যামাইকা তালাওয়াজ ১৬.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান করে ম্যাচ পকেটে পুড়ে ফেলে। এটি তাদের তৃতীয় সিপিএল শিরোপা। বার্বাডোজের হয়ে কাইল মায়ার্স এবং জেসন হোল্ডার একটি করে উইকেট নেন।


বার্বাডোজ রয়্যালস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস এর স্কোরবোর্ড 

বার্বাডোজ রয়্যালস – ১৬১/৭ (২০.০)

জ্যামাইকা তালাওয়াস ১৬২/২ (১৬.১) 

ফলাফল – জ্যামাইকা তালাওয়াস ৮ উইকেটে জয়ী 

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – ফ্যাবিয়ান অ্যালেন

প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ – ব্র্যান্ডন কিং


বার্বাডোজ রয়্যালস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস


বার্বাডোজ রয়্যালস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস ম্যাচের একাদশ

বার্বাডোজ রয়্যালস কাইল মায়ার্স (অধিনায়ক), ডেভন থমাস (উইকেটরক্ষক), আজম খান, রাহকিম কর্নওয়াল, জেসন হোল্ডার, নাজিবুল্লাহ জাদরান, ওবেদ ম্যাককয়, মুজিব উর রহমান, রেমন সিমন্ডস, করবিন বোশ, জোশুয়া বিশপ
জ্যামাইকা তালাওয়াস রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), কেনার লুইস (উইকেটরক্ষক), শামারহ ব্রুকস, ব্র্যান্ডন কিং, মোহাম্মদ নবী, রেমন রেইফার, ইমাদ ওয়াসিম, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, মিগেল প্রিটোরিয়াস, ক্রিস গ্রিন, নিকোলসন গর্ডন

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (১ম টি২০)

IND vs SA

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (১ম টি২০) – হাইলাইটস

টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছে ভারত। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে রোহিত শর্মার দল। তিরুবনন্তাপুরমে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের রীতিমত নাকাল করে ছেড়েছে স্বাগতিকরা। ৮ উইকেট আর ২০ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে তারা।

গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ভারত। ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমত স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রোটিয়ারা। দীপক চাহারের প্রথম ওভারের শেষ বলে বোল্ড অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (০)।

পরের ওভার করতে এলেন পেসার আর্শদীপ সিং। এবার একে একে সাজঘরে ফিরলেন উইকেট রক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক, রাইলি রুশো ও ডেভিড মিলার। তৃতীয় ওভারে চাহারের বলে যখন আর্শদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ট্রিস্টান স্টাবস, দক্ষিণ আফ্রিকার অর্ধেক উইকেট নেই!

৫ উইকেট হারানোর সময় দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল মাত্র ৯। নিজেদের ইতিহাসে এত কম রানে ৫ উইকেট এর আগে হারায়নি তারা। এরপরও প্রোটিয়ারা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান তুলেছে মূলত আটে নামা কেশব মহারাজের ৩৫ বলে ৪১ রানের ইনিংসের সৌজন্যে। মহারাজ তাঁর ইনিংসে ৫টি চারের সঙ্গে মারেন ২টি ছক্কার মার।

মহারাজের আগে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন আর দুজন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান—এইডেন মার্করাম ২৪ বলে করেন ২৫ রান, ওয়েইন পার্নেল ৩৭ বলে করেন ২৪ রান। ৬ষ্ঠ উইকেটে মার্করাম প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে পার্নেলের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন। এরপর কেশব মহারাজ ৭ম উইকেটে পার্নেল ও ৮ম উইকেটে রাবাদার সঙ্গে যথাক্রমে ২৬ ও ৩৩ রানের দুটি জুটি গড়েন।

যার ফলশ্রুতি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান তুলতে সমর্থ হয় সফরকারীরা। স্বাগতিকদের হয়ে আর্শদীপ সিং ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন দীপক চাহার ও হার্শাল প্যাটেল। ৪ ওভারে ১৬ রান খরচায় ১টি উইকেট নিয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন উইকেটশূন্য থাকলেও ৪ ওভারে দেন মাত্র ৮ রান।

এ উইকেটে ব্যাটিং করা দলগুলোর জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। কেননা এই সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ ওভারে মাত্র ১৭ রান তুলতে ভারত হারিয়ে ফেলে রোহিত শর্মার (০) উইকেট। সে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা। সপ্তম ওভারে আনরিখ নর্কিয়ার বলে কট বিহাইন্ড হন বিরাট কোহলিও (৯ বলে ৩ রান)। ১৭ রানে ২ উইকেট—ম্যাচে তখন রোমাঞ্চের সম্ভাবনা।

রোমাঞ্চ এরপর দেখা গেল ঠিকই, তবে সেটি মূলত সূর্যকুমারের ব্যাটিংয়েই। স্বপ্নের ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান যেন আরও একবার ব্যাট করেছেন সতীর্থদের চেয়ে ভিন্ন উইকেটে। তৃতীয় উইকেটে কে এল রাহুলের সঙ্গে তাঁর জুটি অবিচ্ছিন্ন ছিল ৯৩ রানে।

রাহুল ফিফটি করতে খেলেছেন ৫৬ বল, সূর্যকুমারের লেগেছে মাত্র ৩৩ বল। ইনিংসে সূর্যকুমার মেরেছেন ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। রাহুলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। ২০ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় ভারতের। শেষ পর্যন্ত রাহুল ৫১ রানে এবং সুর্যকুমার ৫০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

আগামী রবিবার (২ অক্টোবর) সিরিজের ২য় ম্যাচে এই দুই দল গুয়াহাটি’র বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে।


ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা এর স্কোরবোর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা – ১০৬/৮ (২০.০)

ভারত১১০/২ (১৬.৪)

ফলাফল – ভারত ৮ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – অর্শদীপ সিং


ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা


ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের একাদশ

ভারত রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), ঋষভ পন্ত (উইকেট রক্ষক), কেএল রাহুল, সূর্যকুমার যাদব, দিনেশ কার্তিক, বিরাট কোহলি, অক্ষর প্যাটেল, হার্শাল প্যাটেল, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, দীপক চাহার, এবং আর্শদীপ সিং।
দক্ষিণ আফ্রিকা টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেট রক্ষক), রাইলি রুশো, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করাম, ট্রিস্টান স্টাবস, কাগিসো রাবাদা, ওয়েইন পার্নেল, কেশব মহারাজ, তাবরিজ শামসি এবং আনরিখ নর্কিয়া।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৯ সেপ্টেম্বর: সিপিএল ২০২২ (কোয়ালিফায়ার ২) – জ্যামাইকা তালাওয়াস বনাম গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স

Jamaica Tallawahs vs Guyana Amazon Warriors

জ্যামাইকা তালাওয়াস বনাম গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স (কোয়ালিফায়ার ২) – হাইলাইটস

ফাইনালে উঠার যুদ্ধে, সিপিএল ২০২২ এর কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম, গায়ানাতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছিল জ্যামাইকা তালাওয়াস এবং গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স । প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে জ্যামাইকা তালাওয়াস নির্ধারিত ২০ ওভারে বিশাল  একটি লক্ষ্য দাড় করায় বিপরীত দলের জন্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্যে পৌছাতে পারে নেই দুর্দান্ত প্রতিযোগী গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স । ফলে সিরিজ থেকে বাদ পড়তে হয় তাদের। এই ম্যাচে জয় লাভ করে জ্যামাইকা তালাওয়াস ফাইনালে প্রবেশ করেছে এবং এবং সেখানে তারা মুখোমুখি হবে বার্বাডোজ রয়্যালস এর সাথে। সেই সাথে জ্যামাইকা তালাওয়াস এর হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব জিতে নেন শামার ব্রুকস।

টসে জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স এবং জ্যামাইকা তালাওয়াসকে পাঠায় ব্যাটিং এর জন্য। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে খারাপ অবস্থা ছিল  জ্যামাইকা তালাওয়াসের। দলীয় ১৬ রানে পড়ে ২ উইকেট। দুই জনই ক্যাচ আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। ১ চারের সাহায্যে ৯ বলে ৬ রান করেন ব্র্যান্ডন কিং এবং গোল্ডেন ডাক মারেন কেনার লুইস। এরপর রোভম্যান পাওয়েল ও শামার ব্রুকস মিলে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। তারা দুজন মিলে ৩য় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি তৈরী করেন।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় ক্যাচ আউট হন জ্যামাইকা্ন অধিনায়ক। মাঠ ছাড়ার আগে ২৩ বলে ৩৭ রানের দারুন ইনিংস খেলেন তিনি। তার ৩৭ রানের এই ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছয়। তার পরিবর্তে রেমন রেইফার নেমে শামার ব্রুকসের সাথে মিলে দলীয় রানকে ৭১ থেকে নিয়ে যায় ১২৩ এ।

এলবিডব্লিওর ফাঁদে পড়ে আউট হওয়ার আগে ১ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ২২ বলে ২২ রান করেছিলেন রেমন রেইফার। এরপর তাদের আর কোনো উইকেট পড়ে নেই। শামার ব্রুকস ও ইমাদ ওয়াসিমের ঝড়ো ব্যাটিং-এ ৪.৫ বলে ১২৩ থেকে রান পৌছায় ২২৬ এ। ৫২ বলে ১০৯ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন শামার ব্রুকস। তার এই ১০৯ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭টি চার ও ৮টি ছয় দিয়ে। এছাড়া ১৫ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইমাদ ওয়াসিম। ৪১ রান করতে মেরেছিলেন ৪টি চার ও ৩টি ছয়। শেষে ১১ রান এক্সট্রা সহ ২২৬ রান করেন তারা। 

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের পক্ষে ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন রোমারিও শেফার্ড। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন ওডিয়ান স্মিথ ও ইমরান তাহির। 

লক্ষ্য ছিল ২২৬ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানেই থেমে যায় দাপুটে দল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। তাদের পক্ষে সব থেকে বেশি রান করেছিলেন কিমো পল। ৩৭ বলে করেন ৫৬ রান, সাথে মেরেছিলেন ৭টি চার ও ১টি ছয়। ৩ চার ও ২ ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে ৩১ রান করেন শাই হোপ। ওডিয়ান স্মিথ করেন ১৪ বলে ২৪ রান, গুদাকেশ মতি করেন ১৩ বলে ২২ রান, রহমানুল্লাহ গুরবাজ করেন ১৬ বলে ২২ রান। এছাড়া অধিনায়ক  শিমরন হেটমায়ার ১৫ , পল স্টার্লিং ২, রোমারিও শেফার্ড ২, ও সাকিব আল হাসান করেন ৫ রান। 

জ্যামাইকা তালাওয়াসের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন ক্রিস গ্রিন ও ইমাদ ওয়াসিম। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, নিকোলসন গর্ডন, ও রোভম্যান পাওয়েল


জ্যামাইকা তালাওয়াস বনাম গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স এর স্কোরবোর্ড 

জ্যামাইকা তালাওয়াস২২৬/৪ (১৮.০)

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স – ১৮৯/৮ (২০.০) 

ফলাফল – জ্যামাইকা তালাওয়াস ৩৭ রানে জয়ী 

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – শামার ব্রুকস


জ্যামাইকা তালাওয়াস বনাম গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স


জ্যামাইকা তালাওয়াস বনাম গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স ম্যাচের একাদশ

জ্যামাইকা তালাওয়াস রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), কেনার লুইস (উইকেটরক্ষক), শামার ব্রুকস, ব্র্যান্ডন কিং, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, রেমন রেইফার, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ নবী, নিকোলসন গর্ডন, ক্রিস গ্রিন, মোহাম্মদ আমির
গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স শিমরন হেটমায়ার (অধিনায়ক), রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), শাই হোপ, পল স্টার্লিং, কিমো পল, সাকিব আল হাসান, ওডিয়ান স্মিথ, রোমারিও শেফার্ড, জুনিয়র সিনক্লেয়ার, গুদাকেশ মতি, ইমরান তাহির

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৫ম টি২০)

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৫ম টি২০)

পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৫ম টি২০) – হাইলাইটস

সাত ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সফরকারী ইংল্যান্ডকে ৬ রানে হারিয়ে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক পাকিস্তান। সেই সাথে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন উইকেট রক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। মার্ক উড, ডেভিড উইলি এবং স্যাম কুরানের বোলিং তাণ্ডবে ১৯ ওভারে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। দলের হয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান সর্বোচ্চ ৪৬ বলে ৬৩ রান করেন। যেখানে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।

রিজওয়ান ছাড়া আর মাত্র দুই ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌছাতে পেরেছেন। যার মধ্যে ইফতিখার আহমেদ ১৪ বলে ১৫ রান এবং অভিষিক্ত আমির জামাল ৭ বলে ১০ রান করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছেন মার্ক উড। এছাড়া ডেভিড উইলি ও স্যাম কারান দুইটি করে এবং ক্রিস ওকস ১টি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পরে ইংলিশরা। প্রথম ওভারেই অ্যালেক্স হেলসকে (১) তুলে নেন মোহাম্মদ নওয়াজ। এরপর ফিল সল্ট (৩) এবং বেন ডাকেটকে (১০) ফেরান দুই পেসার হারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৩১ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিনজনকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

সেই পরিস্থিতিতে সফরকারীদের কোণঠাসা করে ফেলেন দুই স্পিনার শাদাব খান ও ইফতিখার আহমেদ। দুজনে মিলে আট ওভার হাত ঘুরিয়ে দেন মাত্র ৪১ রান, তুলে নেন ২ উইকেট। রান তোলার গতি স্লথের সঙ্গে ওভারপ্রতি রান তোলার চাপ বাড়ে ইংল্যান্ডের। ফলে দলীয় ৮৫ রানে ষষ্ঠ উইকেটে হারায় সফরকারীরা।

সেখান থেকে ইংল্যান্ডকে শেষ ওভারে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান অধিনায়ক মঈন। ক্রিস ওকসকে সাথে নিয়ে তিনি সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান দরকার হলেও ইংল্যান্ড নিতে পারে ৯ রান। প্রথম তিন বলে ৭ রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। যেখানে একটি ছক্কাও হাঁকান মঈন।

ফলে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পাকিস্তানী পেসার আমির জামালের শেষ তিন বলে ইংলিশদের প্রয়োজন হয় ৮ রান। স্ট্রাইকে তখন ২ চার ও ৪ ছক্কা হাঁকানো মঈন আলী। কিন্তু ইংল্যান্ড অধিনায়ক আর শেষবেলায় পারলেন না।

চতুর্থ বলটি ইয়র্কার, পঞ্চম বলটিও তাই। তবে সেই বলে কোনোমতে সিঙ্গেল নিতে পারলেন মঈন। শেষ বলে ডেভিড উইলিও নিতে পারলেন কেবল এক রান। ফলে মাত্র ১৪৫ রানের পুঁজি নিয়েও পাকিস্তান জিতে গেল ৬ রানে। সেই সাথে ৩৭ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মঈন।

পাকিস্তানের হয়ে এই দিন ম্যাচে সব বোলারই উইকেট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ ২টি উইকেট শিকার করেছেন হারিস রাউফ। এছাড়া একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন ইফতিখার আহমেদ, মোহাম্মদ নওয়াজ, শাবাদ খান, আমির জামাল এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।

সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড, এবং তারপরের ম্যাচে জয় পেয়েছিলো পাকিস্তান। তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়ে সিরিজে এগিয়ে যায়। তবে তার পরের দুই ম্যাচ জয়ী হয়ে এখন ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। আগামীকাল শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিরিজের ৬ষ্ঠ ম্যাচে এই দুই দল একই সময় ও একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে।


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড এর স্কোরবোর্ড

পাকিস্তান – ১৪৫/১০ (১৯.০)

ইংল্যান্ড – ১৩৯/৭ (২০.০)

ফলাফল – পাকিস্তান ৬ রানে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – মোহাম্মদ রিজওয়ান 


ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড (৫ম টি২০)


পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের একাদশ

পাকিস্তান বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেট রক্ষক), শান মাসুদ, হায়দার আলী, ইফতিখার আহমেদ, আসিফ আলী, মোহাম্মদ নওয়াজ, শাদাব খান, আমির জামাল, হারিস রউফ, এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।
ইংল্যান্ড মঈন আলী (অধিনায়ক), ফিলিপ সল্ট (উইকেট রক্ষক), ডেভিড মালান, অ্যালেক্স হেলস, বেন ডাকেট, ক্রিস ওকস, হ্যারি ব্রুক, স্যাম কুরান, ডেভিড উইলি, মার্ক উড এবং আদিল রশিদ।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৭ সেপ্টেম্বর: সিপিএল ২০২২ (কোয়ালিফায়ার ১) – গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৭ সেপ্টেম্বর: সিপিএল ২০২২ (কোয়ালিফায়ার ১) – গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস (কোয়ালিফায়ার ১) – হাইলাইটস

সিপিএল ২০২২ এ প্লে-অফের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে গায়ানা’র প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে রাকিম কর্নওয়ালের অল-রাউন্ডার নৈপুণ্যে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স এর বিপক্ষে ৮৭ রানের বিশাল জয় পেয়েছে বার্বাডোজ রয়্যালস। সেই সাথে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তাঁরা।

সাকিব আল হাসানের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স টানা চার ম্যাচে জয়ী হয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। দলও পায়নি জয়ের দেখা।

সাকিব যখন দলে যোগ দেন তখন দল প্রথম পর্ব থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায়। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যোগ দেওয়ার পর তারা টানা চার ম্যাচে জয় পায়। এর মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচে বল হাতে সফল হলেও ব্যাট হাতে কোনো রানই করতে পারেননি সাকিব। টানা দুই গোল্ডেন ডাক মেরে আসর শুরু করা সাকিব বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন শেষ দুই ম্যাচে। ব্যাটে বলে দারুণ পারফর্ম করে টানা দুই ম্যাচে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

প্লে-অফে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দ্রুতই তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভুল বলে প্রমাণিত হয়। বিশালদেহী রাকিম কর্নওয়ালের তাণ্ডবে ২০ ওভারে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ স্কোরবোর্ডে জমা করে বার্বাডোজ রয়্যালস।

জবাব দিতে নেমে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স হেরেছে ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। বল হাতে ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে কর্নওয়ালের উইকেটটি নিলেও ব্যাট হাসেনি সাকিবের। আউট হয়েছেন ২ বলে মাত্র ১ রান করে।

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে কর্নওয়াল খেলেছেন ৫৪ বলে ৯১ রানের ঝড়ো ইনিংস। সে ইনিংসে ছিল ২টি চার এবং ১১টি ছক্কার মার। সিপিএলের ইতিহাসেই এটা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। কর্নওয়াল ঝড় অবশ্য থামিয়েছেন সাকিবই। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সাকিবের বলেই আউট হন তিনি।

কর্নওয়াল ছাড়াও বার্বাডোজের হয়ে ব্যাট হেসেছে আজম খানের। কর্নওয়ালের সঙ্গে মিলে মাত্র ৮.৩ ওভারে ৯০ রানের জুটি গড়েছেন আজম খান। এ পাকিস্তানি তারকা আউট হওয়ার আগে তিনটি চার ও চারটি ছয়ের মারে ৩৫ বলে খেলেছেন ৫২ রানের ইনিংস।

১৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স শুরুতেই হারিয়েছে রহমানউল্লাহ গুরবাজের উইকেট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তাঁরা। ফলে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইকেটে গিয়ে মোটে তিন বল থাকতে পেরেছেন সাকিব। চারে নামা সাকিব ১ রান করেই ফিরেছেন র‍েমন সিমন্ডসের বলে এলবিডব্লু হয়ে।

গায়ানার পক্ষে যা একটু বলার মতো রান করেছেন তা অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। ২৯ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। বার্বাডোজ রয়্যালসের বিপক্ষে ১৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন সিমন্ডস। ২১ রানে ২ উইকেট তুলে নেন মুজিব উর রহমান।

তবে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন ম্যাচের নায়ক রাকিম কর্নওয়াল। মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন বার্বাডোজ রয়্যালসের এই অল-রাউন্ডার। ব্যাটে এবং বলে দুর্দান্ত এই পারফর্ম করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

হেরে গেলেও গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা একদম শেষ হয়ে যায়নি। বুধবার ভোরে এলিমিনেটরে জয় পাওয়া জ্যামাইকা তালাওয়াসের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জয় পেলেই ফাইনালে উঠে যাবে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচটি।


গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস এর স্কোরবোর্ড

বার্বাডোজ রয়্যালস – ১৯৫/৫ (২০.০)

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স – ১০৮/১০ (১৭.৪)

ফলাফল – বার্বাডোজ রয়্যালস ৮৭ রানে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – রাকিম কর্নওয়াল


ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৭ সেপ্টেম্বর: সিপিএল ২০২২ (কোয়ালিফায়ার ১) – গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস


গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম বার্বাডোজ রয়্যালস ম্যাচের একাদশ

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স শিমরন হেটমায়ার (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেট রক্ষক), শাই হোপ, চন্দ্রপল হেমরাজ, সাকিব আল হাসান, রোমারিও শেফার্ড, কিমো পল, ওডিয়ান স্মিথ, গুদকেশ মতি, ইমরান তাহির এবং জুনিয়র সিনক্লেয়ার।
বার্বাডোজ রয়্যালস কাইল মায়ার্স (অধিনায়ক), ডেভন থমাস (উইকেট রক্ষক), হ্যারি টেক্টর, রাকিম কর্নওয়াল, আজম খান, জেসন হোল্ডার, মুজিব উর রহমান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, ওবেদ ম্যাককয়, রেমন সিমন্ডস এবং হেইডেন ওয়ালশ।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৭ সেপ্টেম্বর: সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ (২য় টি২০)

সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ (২য় টি২০) – হাইলাইটস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতেছে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭ রানে হারানোর পর মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা ৩২ রানের জয় পেয়েছে। সেই সাথে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৫ উইকেটে বাংলাদেশের ১৬৯ রানের জবাবে খেলতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৩৭ রান করতে সক্ষম হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশের হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ ও এবাদত হোসেন।

১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। চিরাগ সুরিকে নাসুম, মোহাম্মদ ওয়াসিমকে তাসকিন, আরিয়ান লাকরা ও ভৃত্য অরবিন্দকে মোসাদ্দেক আউট করেন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন ওয়াসিম। অন্য তিনজনই প্যাভিলিয়নে ফেরেন সিঙ্গেল ডিজিটে।

এরপর দুর্দান্ত এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেন চুন্দাঙ্গাপয়িল রিজওয়ান ও বসিল হামিদ। পঞ্চম উইকেটে তারা ৯০ রানের জুটি গড়ে তোলেন। সেই জুটি ভাঙে এবাদত হোসেনের কল্যাণে। ৪২ রানে হামিদকে সাজঘরে ফেরান এবাদত। জাওয়ার ফরিদ করেন ৮ রান। শেষ পর্যন্ত ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন দলপতি রিজওয়ান।

এর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশকে ২৭ রান এনে দেন মেহেদী ও সাব্বির রহমান। টানা তৃতীয় বারের মতো দলের হয়ে ওপেনিংয়ের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন সাব্বির। ৯ বল মোকাবিলায় সমান এক চার ও ছক্কার মারে ১২ রান করে আরিয়ান লাকরার বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লিটন দাস ও মেহেদী ৪১ রানের জুটি গড়েন। দারুণ ব্যাট করতে থাকা লিটন স্টাম্প ছেড়ে আয়ান খানকে মারতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৪ চারের সাহায্যে ২০ বলে তিনি ২৫ রান করেন।

একপ্রান্ত আগলে রাখা মেহেদীকে এদিন বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় আফিফ হোসেন। আফিফ এদিন ২ চার ও এক ছক্কায়, ১০ বলে ১৮ রান করে আউট হন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন মোসাদ্দেক ও মেহেদী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে এদিন মিরাজকে ফিরতে হয় ফিফটি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে সাবির আলীর করা পঞ্চম বলটি লাইনের বাইরে থাকলেও এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। ৫ চারের মারে ৩৭ বলে ৪৬ রান করেন মেহেদী। টি-টোয়েন্টিতে এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপ ২০২২ এ ৩৮ রান করেছিল এ সংস্করণে মেহেদী সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মোসাদ্দেক এদিন নিজেকে ফিনিশারের ভূমিকায় মেলে ধরতে পারেননি। ১৭তম ওভারে ২২ বলে ২৭ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তার ইনিংস ছিল ২ চারের সঙ্গে একটি ছয়ের মার।

মোসাদ্দেক যখন আউট হন তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান। শেষ তিন ওভারে দলকে ৩২ রানের বেশি এনে দিতে পারেননি অধিনায়ক নুরুল হাসান ও ইয়াসির আলী। নুরুল ১০ বলে ১৯ ও ইয়াসির ১৩ বলে ২১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। দুজনেই সমান একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন।


সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ এর স্কোরবোর্ড

বাংলাদেশ – ১৬৯/৫ (২০.০)

সংযুক্ত আরব আমিরাত – ১৩৭/৫ (২০.০)

ফলাফল – বাংলাদেশ ৩২ রানে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – মেহেদী হাসান মিরাজ


সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ


সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের একাদশ

সংযুক্ত আরব আমিরাত চুন্দাঙ্গাপয়িল রিজওয়ান (অধিনায়ক), ভৃত্য অরবিন্দ (উইকেট রক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম, আরিয়ান লাকরা, বসিল হামিদ, চিরাগ সুরি, আয়ান আফজাল খান, কার্তিক মিয়াপ্পন, জাওয়ার ফরিদ, সাবির আলি, এবং জহুর খান।
বাংলাদেশ নুরুল হাসান (অধিনায়ক ও উইকেট রক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসুম আহমেদ, ইয়াসির আলী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, এবাদত হোসেন, এবং তাসকিন আহমেদ।

ক্রিকেট হাইলাইটস, ২৮ সেপ্টেম্বর: সিপিএল ২০২২ (এলিমিনেটর) – সেন্ট লুসিয়া কিংস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস

Saint Lucia Kings vs Jamaica Tallawahs

সেন্ট লুসিয়া কিংস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস (এলিমিনেটর) – হাইলাইটস

সিপিএল ২০২২ এর এলিমিনেটর ম্যাচে প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম, গায়ানাতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছিল সেন্ট লুসিয়া কিংস এবং জ্যামাইকা তালাওয়াস। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে জ্যামাইকা তালাওয়াস নির্ধারিত ২০ ওভারে ভাল একটি লক্ষ্য দাড় করায় বিপরীত দলের জন্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য তারা করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই সব উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় সেন্ট লুসিয়া কিংস। ফলে সিরিজ থেকে বাদ পড়ে তারা। এই ম্যাচে জয় লাভ করে জ্যামাইকা তালাওয়াস কোয়ালিফায়ার-২ তে প্রবেশ করেছে এবং মুখোমুখি হবে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স এর সাথে। সেই সাথে জ্যামাইকা তালাওয়াস এর হয়ে সময়োপযোগী ব্যাটিং এবং দুর্দান্ত বোলিং করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব জিতে নেন মোহাম্মদ নবী।

টসে জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন সেন্ট লুসিয়া কিংস এবং জ্যামাইকা তালাওয়াসকে পাঠায় ব্যাটিং এর জন্য। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না জ্যামাইকা তালাওয়াসের। দলীয় ২১ রানে পড়ে ২ উইকেট। দুই জনই আউট হন এলবিডব্লিওর ফাঁদে পড়ে। ১ চারের সাহায্যে ১৩ বলে ৭ রান করেন ব্র্যান্ডন কিং এবং ১ ছয়ের সাহায্যে ১০ বলে ১০ রান করেন কেনার লুইস। ৯ম ওভারে আবারও এলবিডব্লিওর ফাঁদে পড়ে আউট হন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। ১৪ বল খেলে মাত্র ৭ রান করেছিলেন তিনি। 

এরপর দলীয় ৯৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তাদের হয়ে সবথেকে বেশি রান করা শামার ব্রুকস। ৩১ বলে ৪৭ রানের দারুন একটি ইনিংস খেলেন তিনি। তার ৪৭ রানের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছয়। তিনি মাঠ ছাড়ার পর, মাঠে নামেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারেন গোল্ডেন ডাক। এরপর সাজঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ২ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ২৩ বলে ২৫ রান করা রেমন রেইফার। এর পরবর্তী ৮ বলের মধ্যে পড়ে আরও দুই উইকেট। একজন ইমাদ ওয়াসিম (৭) ও আরেকজন ক্রিস গ্রিন (২)।

৮ উইকেট হারিয়ে রান তখন ছিল ১১৫। সেখান থেকে মোহাম্মদ নবীর ঝড়ো ব্যাটিং এ ভাল অবস্থানে পৌছায় তাদের দলীয় মোট। ৪ ছয়ের সাহায্যে ১৫ বলে ৩১ রান করেছিলেন তিনি এবং ছিলেন অপরাজিত। তার সাথে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন নিকোলসন গর্ডন। শেষে ৭ রান এক্সট্রা সহ ১৪৮ রান করে তারা। 

সেন্ট লুসিয়া কিংসের পক্ষে ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন ডেভিড উইজ। ২টি উইকেট নেন আলজারি জোসেফ। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন জেভার রয়্যাল, ম্যাথিউ ফোর্ড, ও কেসরিক উইলিয়ামস।

লক্ষ্য ছিল ১৪৯ রানের কিন্তু ২ ওভার বাকি থাকতেই ১১৫ রানে থেমে যায় সেন্ট লুসিয়া কিংসের ইনিংস। তাদের হয়ে সবথেকে বেশি রান করেছেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। ৪ চার ও ২ ছয়ের সাহায্যে খেলেন ২৬ বলে ৪১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ২৬ বলে ১৮ রান করেন অ্যাডাম হোস। ৪ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ১৮ বলে ২৮ রান করেন আলজারি জোসেফ। এছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেন নেই। জনসন চার্লস (৩), নিরোশান ডিকওয়েলা (৮), রোস্টন চেজ (১), মার্ক ডেয়াল (৯), ম্যাথিউ ফোর্ড (১), ডেভিড উইজ (০), জেভার রয়্যাল (৩), কেসরিক উইলিয়ামস (০)।

জ্যামাইকা তালাওয়াসের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ও মোহাম্মদ নবী। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিম। 


সেন্ট লুসিয়া কিংস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস এর স্কোরবোর্ড 

সেন্ট লুসিয়া কিংস – ১১৫/১০ (১৮.০)

জ্যামাইকা তালাওয়াস – ১৪৮/৮ (২০.০) 

ফলাফল – জ্যামাইকা তালাওয়াস ৩৩ রানে জয়ী 

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – মোহাম্মদ নবী


সেন্ট লুসিয়া কিংস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস


সেন্ট লুসিয়া কিংস বনাম জ্যামাইকা তালাওয়াস ম্যাচের একাদশ

সেন্ট লুসিয়া কিংস ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), নিরোশান ডিকওয়েলা (উইকেটরক্ষক), মার্ক ডেয়াল, জনসন চার্লস, রোস্টন চেজ, অ্যাডাম হোস, আলজারি জোসেফ, ডেভিড উইজ, জেভার রয়্যাল, ম্যাথিউ ফোর্ড, কেসরিক উইলিয়ামস
জ্যামাইকা তালাওয়াস রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), কেনার লুইস (উইকেটরক্ষক), ব্র্যান্ডন কিং, রেমন রেইফার, শামার ব্রুকস, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, মোহাম্মদ নবী, ক্রিস গ্রিন, ইমাদ ওয়াসিম, নিকোলসন গর্ডন, মোহাম্মদ আমির