ব্লগ

ক্রিকেট হাইলাইটস, ১৯ জুলাই: শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান (১ম টেস্ট – ৪র্থ দিন)

শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান

শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান (প্রথম টেস্ট৪র্থ দিন)

গল টেস্টে জিততে হলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দুটি রেকর্ড ভাঙতে হবে। এই ভেন্যুতে চতুর্থ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করতে হবে, এবং একই সঙ্গে গলে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নিজেদের করে নিতে হবে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মনে হচ্ছে রেকর্ড গড়ে জয়ের সুবাস নিয়েই মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান দল।

৩৪২ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেটে ২২২ রান করে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে সফরকারী পাকিস্তান। বাবর আজমের দলের হাতে আগামীকাল পুরো দিন সময় আছে, জিততে হলে করতে হবে ৭ উইকেটে ১২০ রান।

চতুর্থ দিন শেষে ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ২৮৯ বল খেলে ১১২ রানে অপরাজিত আছেন। ৫ বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন একটি ওভার বাউন্ডারি। তাকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১২ বলে তিনি ৭ রান করে অপরাজিত আছেন।

পাকিস্তানের জন্য অবশ্য বড় বাধা বাঁহাতি লঙ্কান স্পিনার প্রবাথ জয়াসুরিয়া। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৫ উইকেট নেওয়া প্রবাথ দ্বিতীয় ইনিংসে দেখা দিয়েছেন বিধ্বংসী রূপে। পাকিস্তানের ৩টি উইকেটের ২টিই শিকার করেছেন তিনি। প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকের পর টেস্টে টানা চার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে প্রবাথকে।

পাকিস্তানকে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন মূলত শফিক, ইমাম-উল-হক ও বাবর। ইমামকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৭ রান তুলেছেন শফিক। রমেশ মেন্ডিসের বলে নিরোশান ডিকভেলাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৭৩ বলে ৩৫ রান করেছেন ইমাম।

এরপর প্রবাথের শিকার হয়ে আজহার আলীও (৬) দ্রুত উইকেট থেকে বিদায় নিলে বাবরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শফিক। তৃতীয় উইকেটে এই দুজনে মিলে ১০১ রানের বড় জুটি গড়ে তোলেন। পরে আবারও স্বাগতিকদের উইকেট এনে দেন স্পিনার প্রবাথ। তাঁর শিকার হয়ে বাবর ৫৫ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলে ভাঙে এই দুজনের জুটি।

বাবরের আউটের পর রিজওয়ানকে নিয়ে দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে পার করে দেন শফিক। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক করা শফিক ৩৮.৭৫ স্ট্রাইক রেট একটি ধৈর্য্যশীল ইনিংস খেলেছেন। ১১২ রান করতে ২৮৯টি বল খেলেছেন শফিক। চার মেরেছেন ৫টি ও ছয় একটি।

এর আগে ৯ উইকেটে ৩২৯ রান নিয়ে ৪র্থ দিনের খেলা শুরু করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। তবে বেশিদূর আর ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে পারেননি তারা। খেলা শুরু হওয়ার ৪ ওভারের মধ্যেই নাসিম শাহ’র বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন প্রবাথ (৪)। ফলে ২য় ইনিংসে ৩৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন দিনেশ চান্ডিমাল।

গলের স্পিনবান্ধব উইকেটে টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে কখনো ৩০০ রানের বেশি করতে পারেনি কোনো দল। এই ভেন্যুতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসটাও ঠিক ৩০০ রানের। সেই ইনিংসটাকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারে পাকিস্তান। ২০১২ সালে ইনিংসটা যে তারাই খেলেছিল। যদিও ৫১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করে পাকিস্তান হেরেছিল ২০৯ রানে।

গলে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার। ২০১৯ সালের আগস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট জিতেছিল লঙ্কানরা।


শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান এর স্কোরবোর্ড

শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস) – ২২২/১০ (৬৬.১)

পাকিস্তান (১ম ইনিংস) – ২১৮/১০ (৯০.৫)

শ্রীলঙ্কা (২য় ইনিংস) – ৩৩৭/১০ (১০০.০)

পাকিস্তান (২য় ইনিংস) – ২২২/৩ (৮৫.০)



শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান ম্যাচের একাদশ

শ্রীলঙ্কা দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), নিরোশান ডিকভেলা (উইকেট রক্ষক), কুশল মেন্ডিস, ওশাদা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, দিনেশ চান্ডিমাল, রমেশ মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, মহীশ তিকশানা, কাসুন রাজিথা, এবং প্রবাথ জয়াসুরিয়া।
পাকিস্তান বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেট রক্ষক), আবদুল্লাহ শফিক, আজহার আলী, আগা সালমান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ইমাম-উল-হক, ইয়াসির শাহ, শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলী, এবং নাসিম শাহ।

আরো ব্লগ