ব্লগ

ক্রিকেট হাইলাইটস, ৩১ জুলাই: জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ (২য় টি২০)

জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ (২য় টি২০) – হাইলাইটস

রবিবার, তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে, জিম্বাবুয়ে এবং বাংলাদেশ একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ১ম ম্যাচে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের চমৎকার সমন্বয়ে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ রানের জয় পেয়েছিল। কিন্তু হারারেতে ২য় ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং-এর কারনে ৭ উইকেটের জয় পেল টাইগাররা। তার সাথে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আবারও টসে হেরেছিল বাংলাদেশ দল আগে ফিল্ডিং করতে নেমেছিল টাইগাররা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে দল।

দ্বিতীয় ম্যাচেও টস হার এবং প্রথমে ফিল্ডিং। তবে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবার আর পেসার দিয়ে আক্রমণ শুরু করলেন না। নিয়ে আসলেন স্পিনার। তাও নিয়মিত স্পিনার মাহদি হাসানকে নয়, মোসাদ্দেকের হাতে তুলে দিলেন বল।

বল হাতে নিয়েই জিম্বাবুইয়ানদের ওপর চড়াও হলেন মোসাদ্দেক। তার করা প্রথম ওভারেই দুই ব্যাটারকে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার রেগিস চাকাবভাকে মাঠ ছাড়া করেন মোসাদ্দেক। চাকাবভা মেরেছিলেন একটি গোল্ডেন ডাক। 

এরপর মোসাদ্দেক ওভারের শেষ বলে কভার পয়েন্টে মাহদি হাসানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ওয়েসলি মাধভিরেকে। ৫ রানের মাথায় পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। তিনি ৫ বলে ৪ রান করেছিলেন। মোসাদ্দেকের দুর্দান্ত বোলিং যেমন থামছিলই না।

দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আবারও আঘাত হানলেন তিনি জিম্বাবুয়ের ওপর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মোসাদ্দেকের বলে উইকেট হারালেন জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ওপেনার এবং অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে। তিনি আউট হয়েছিল মাত্র ১ রানে।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে শন উইলিয়ামসকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মোসাদ্দেক। ৭ বলে ৮ রান করে আউট হলেন উইলিয়াম। এরপর সপ্তম ওভারে বল করতে এসে আবারও উইকেট নিলেন তিনি। এবার প্যাভিলিয়নের পথ ধরালেন মিল্টন সুম্বাকে। ৮ বলে ৩ রান করেন তিনি। সে সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট শিকারী হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক।

এরপর রায়ান বার্ল ৩ চারের মারে করেন ৩১ বলে ৩২ রান। ৬ বলে ৬ রান করেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। ৫ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন লুক জংওয়ে। ৪টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৫৩ বলে ৬২ রান করেন রাজা। তার রানের উপর নির্ভর করেই ১৩৫ রানের লক্ষ্য দাড় করায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ৫টি উইকেট নেন মোসাদ্দেক। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

লক্ষ্য ১৩৬ রানের। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর এবার তেমন চাপ নেই। তারপরও সুবিধা করতে পারলেন না মুনিম শাহরিয়ার। আরও একবার ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন। লিটন দাসের ওপেনিংয়ে ঝড়ো সূচনা করেছিলেন। ফলে ২৭ বলে ৩৭ রানের জুটি এসেছিল। কিন্তু মুনিম বলে রান করেই বোল্ড হয়ে গেছেন রিচার্ড এনগারাভার বলে।

লিটন দাসের দুরন্ত ফর্ম ছুটছেই। বাংলাদেশ দলে অন্যতম ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই ব্যাটার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টিটোয়েন্টি ফিফটি তুলে নিলেন মাত্র ৩০ বলে। খেলেছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু শন উইলিয়ামসকে সুইপ করতে গিয়ে লিটন ভুল করে বসলেন, পড়লেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। ৩৩ বলে চার আর ছক্কায় গড়া লিটনের ইনিংসটি ছিল ৫৬ রানের।

এর তিন বল পর আরও একটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। এবার এনামুল হক বিজয় (১৫ বলে ১৬) হয়েছেন সিকান্দার রাজার শিকার। তবে এরপর আর দলকে কোনো বিপদে পড়তে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত আর আফিফ হোসেন। ৪র্থ উইকেটে ৪৮ বলে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। আফিফ ২৮ বলে ৩০ আর ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলকে জয় এনে দিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা।


জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ এর স্কোরবোর্ড

জিম্বাবুয়ে – ১৩৫/৮ (২০)

বাংলাদেশ – ১৩৬/৩ (১৭.৩)

ফলাফল – বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী 

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – মোসাদ্দেক হোসেন 


জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ


জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের একাদশ

জিম্বাবুয়ে ক্রেগ এরভিন (অধিনায়ক), রেগিস চাকাবভা (উইকেটরক্ষক), শন উইলিয়ামস, ওয়েসলি মাধভেরে, রায়ান বার্ল, মিল্টন শুম্বা, লুক জংওয়ে, সিকান্দার রাজা, রিচার্ড নাগারভা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তানাকা চিভাঙ্গা
বাংলাদেশ নুরুল হাসান (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক),  মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, মাহদী হাসান, হাসান মাহমুদ।

আরো ব্লগ