ব্লগ

ক্রিকেট হাইলাইটস, ১৬ জুলাই: ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ (৩য় ওডিআই)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ (3rd ODI) Highlights

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ (৩য় ওডিআই) – হাইলাইটস

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেট ও ৯ বল হাতে রেখে তুলে নিয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। এতে করে তিন ম্যাচের সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়ে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবাল টাইগাররা।

এই নিয়ে সিরিজে তৃতীয়বারের মতো টস জিতেছেন তামিম ইকবাল। আগের দুই ম্যাচের মতো এবারও আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে টাইগার দলের এই বাঁহাতি স্পিনার শিকার করেন ৫ উইকেট।

ইনিংসের ৩য় ওভারে নিজের প্রথম বলেই দারুণ এক টার্নিং ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট ডিফেন্স করা ব্র্যান্ডন কিংকে (৮) বোল্ড করেন তাইজুল। এরপর নিজের ২য় ওভারে শাই হোপকেও (২) সাজঘরে পাঠান এ বাঁহাতি স্পিনার।

অন্য প্রান্তে বোলিং করতে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান দেখছিলেন তাইজুলের ঘূর্ণি জাদু। ইনিংসের ষষ্ঠ ও ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে তিনিও যোগ দেন উইকেট শিকারের উৎসবে। ওভারের তৃতীয় বলে শামারহ ব্রুকস’কে (৪) এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলে মাঠ ছাড়া করেন মোস্তাফিজ।

মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে দ্রুত রান তোলার বদলে উইকেটে টিকে থাকার দিকে মনোযোগ দেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ও ব্যাটার কিসি কার্টি। ইনিংসের ১৬তম ওভারে গিয়ে পূরণ হয় ক্যারিবীয়দের দলীয় পঞ্চাশ।

চতুর্থ উইকেটে দেখেশুনে ১২৮ বল খেলে এই যুগল ৬৭ রান তুলে নেন। থিতু হয়ে যাওয়া এই জুটিটি অবশেষে ভাঙেন নাসুম আহমেদ। বাঁহাতি এই স্পিনারকে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅনে তামিমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন কার্টি (৬৬ বলে ৩৩)।

এরপর রানের গতি আরও কমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৩৪ ওভারে দলীয় ১০০ রান স্পর্শ করতে সমর্থ হয় ক্যারিবীয়রা। ওই সময় ৪৩ বলে মাত্র ১৬ রান তুলেছিলেন পুরান এবং রভম্যান পাওয়েল। তবে ৩৭তম ওভারে তাইজুলের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন পাওয়েল (২৯ বলে ১৮)।

এরপর ৩৯তম ওভারে তাইজুলের ঘূর্ণি সামলাতে গিয়ে কিমো পলের (৬) পা বেরিয়ে গেলে বিদ্যুৎগতিতে স্টাম্পিং করেন নুরুল হাসান। ফলে স্বাগতিকদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেট ১২৫ রান। তবে উইকেটের এক প্রান্ত ধৈর্য্য ধরে খেলতে থাকেন পুরান। তাকেই নিজের পঞ্চম শিকার বানান তাইজুল। ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়, ১০৯ বলে ৭৩ রান করা পুরানকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই টাইগার স্পিনার।

এরপর শেষ উইকেটে ২৯ বলে ২৫ রান যোগ করেন আলজারি জোসেফ এবং রোমারিও শেফার্ড। ১২ রানে জীবন পাওয়া শেফার্ড শেষ ব্যাটার হিসেবে বোল্ড আউট হন ১৯ করে। মোস্তাফিজুর রহমান এবং নাসুম আহমেদ ২টি করে এবং মোসাদ্দেক হোসেন ১টি উইকেট তুলে নেন।

১৭৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ২০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। জোসেফের ডেলিভারিতে এজ হয়ে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত।

শান্তকে হারানোর পর লিটন দাসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি (৬২ বলে) গড়ে তোলেন তামিম। টাইগার দলপতি খেলছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তবে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে থামতে হয়েছে তাকে। গুদকেশ মতিকে সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার।

তামিম ফিরলেও আরও একবার দারুণ এক ইনিংস বেরিয়ে এসেছে লিটন দাসের উইলো থেকে। ডানহাতি এই ব্যাটার তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওডিআই ফিফটি। যদিও ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। গুদকেশে’র দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বিধ্বংসী এই ব্যাটার। ৬৫ বলে গড়া তার ৫০ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৫ বাউন্ডারি’র সাথে ১টি ছক্কা।

এর ঠিক এক বল পরই আরেক ব্যাটার আফিফ হোসেনকেও (০) বোল্ড করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন গুদকেশ। ২৫তম ওভারে ডাবল উইকেট মেইডেন নেন ক্যারিবীয় বাঁহাতি এই স্পিনার। মোসাদ্দেক খেলছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু দারুণ বোলিং করা গুদকেশকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে লংঅফ ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন মোসাদ্দেক (১৪)। ১১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।

এরপর মাহমুদউল্লাহ আর নুরুল হাসানের ব্যাটে আবারও স্বস্তি ফেরে টাইগার শিবিরে। ৩৭ বলে তারা যোগ করেন ৩১ রান। পুরানের বলে স্টাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ (৬১ বলে ২৬ রান)। ১৪৭ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, আবারও আশায় বুক বাঁধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সেই আশায় গুঁড়েবালি দিয়েছেন নুরুল এবং মেহেদী হাসান। ৫৭ বলে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ কাটিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা। নুরুল ৪ বাউন্ডারিতে, ৩৮ বলে ৩২ এবং মেহেদী ৩৫ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে ১০ ওভারে মাত্র ২৩ রানে দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন গুদকেশ মতি। এছাড়া নিকোলাস পুরান এবং আলজারি জোসেফ ১টি করে উইকেট তুলে নেন। অসাধারণ পারফর্ম করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন তাইজুল ইসলাম। এছাড়া ধারাবাহিক পারফর্ম করায় প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ এর স্কোরবোর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ১৭৮/১০ (৪৮.৪)

বাংলাদেশ – ১৭৯/৬ (৪৮.৩)

ফলাফল – বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ – তাইজুল ইসলাম

প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ – তামিম ইকবাল


ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ (3rd ODI) Highlights - 2


ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের একাদশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিকোলাস পুরান (অধিনায়ক), শাই হোপ (উইকেট রক্ষক), শামারহ ব্রুকস, ব্র্যান্ডন কিং, কিসি কার্টি, রোভম্যান পাওয়েল, কিমো পল, রোমারিও শেফার্ড, আকিল হোসেন, আলজারি জোসেফ এবং গুদকেশ মতি।
বাংলাদেশ তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), নুরুল হাসান (উইকেট রক্ষক), লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

আরো ব্লগ